হ্রাস্ব স্বরধ্বনি ও দীর্ঘ স্বরধ্বনি কাকে বলে

 হ্রাস্ব স্বরধ্বনি ও দীর্ঘ স্বরধ্বনি

হ্রাস্ব স্বরধ্বনি ও দীর্ঘ স্বরধ্বনি
হ্রাস্ব স্বরধ্বনি ও দীর্ঘ স্বরধ্বনি

ধ্বনি বিজ্ঞানী আব্দুল হাই এর মতে ধ্বনিতাত্ত্বিক দিক থেকে স্বরের দীর্ঘতা ও হ্রাস্বতা বাংলা ভাষায় আভিধানিক পর্যায়ে কোন শব্দের অর্থ তার ধর্ম ঘটে না যেমন ঘটা ইংরেজি কিংবা উর্দু ভাষাতে। তবে আবেগের তারতম এক শব্দের স্বরধ্বনির ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উচ্চারিত হতে পারে তাতে শব্দের মূল অর্থের কোন পার্থক্য ঘটে না। এছাড়া বাংলায় একাক্ষরিক শব্দের স্বরধ্বনির উচ্চারণ দীর্ঘ হয় অথচ দ্ব্যক্ষরিক শব্দের প্রথম স্বরধনের চেয়ে দ্বিতীয় স্বরের উচ্চারণ দীর্ঘ হয়। 

বাংলায় স্বরধ্বনিগুলোর উচ্চারণের সমানুপাতে হ্রাস্ব ও দীর্ঘ এ দুভাগে ভাগ হয়।

হ্রাস্ব স্বরধ্বনি

যে স্বরধ্বনি উচ্চারণে হ্রাস্ব তাকে হ্রাস্ব স্বরধ্বনি বলে। যেমন- অ, ই,  উ, ঋ ইত্যাদি।

দীর্ঘ স্বরধ্বনি

যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় ও প্রয়াস বেশি লাগে তার কি দীর্ঘস্বরণী বলে। যেমন আ, ঈ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ।  ইত্যাদি।

অর্ধ স্বরধ্বনি

 মৌলিক ও যৌগিক স্বরধ্বনি ছাড়া বাংলায় অর্থসহ দুটি রয়েছে।  ব্রিটিশধ্বনি বিজ্ঞানীদের  মতেঅর্ধ স্বরধ্বনি এমন একটি স্বরধ্বনি অর্থাৎ শ্রুতি বা পিচ্ছিল স্বরধ্বনির যার উচ্চারণে জিব্বার গতি উচ্চ ও সংকীর্ণতার একটি স্বরধ্বনি দিক থেকে প্রশস্ততর একটি স্বরধনের দিকে অগ্রসর হয়। তাদের  মতে জিব্বার গতিশীলতা ও সংশ্লিষ্ট একটি অসম্পূর্ণ স্বরধ্বনির সমষ্টি হচ্ছে অর্ধ স্বরধ্বনি।

ধ্বনি বিজ্ঞানী আব্দুল হাইয়ের মতে বাংলা শব্দের মধ্যে দুই স্বরধ্বনির মাঝখানে কিংবা এক শব্দের শেষে এবং পরবর্তী শব্দের আদিতে পাশাপাশি একই স্বরধনে থাকলে একসঙ্গে উচ্চারণ করতে গিয়ে বাগযন্ত্র গুলো অসুবিধা হয়। সে অসুবিধা দূর করার জন্য যেসব অস্পষ্ট ধনী উথিত হয় সেই গ্লেন্ডিং ধনীগুলোই তারপরে ভর্তি স্বরধ্বনির সহযোগে জাত যথার্থ অর্ধ স্বরধ্বনি। অন্তঃস্থ ‘য়’ এবং ‘ব’ এ দুটি অর্ধ স্বরধ্বনি। য় এর উচ্চারণ ই বা অ এর মত এবং ব এর উচ্চারণ ‘উঅ’ মত অথ্যাৎ য় বা ব ব্যঞ্জন শ্রেণীর ভক্ত হলেও উচ্চারণ কিছু পরিমাণে স্বরধনের মত।

নাসিক্য বা অনুনাসিক্য ও স্বরধ্বনি

নাসিক্য বা অনুনাসিক্য স্বরধ্বনি নামের আরও এক প্রকার স্বরধ্বনি আছে।  যে সরদিন উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে নির্গত বাতাস তালুর নরম অংশে বাধা পেয়ে শুধু মুখ দিয়ে বের না হয়ে মুখ অন্যায় উভয় পথে বেরিয়ে আসে তাকে  নাসিক্য বা অনুনাসিক্য স্বরধ্বনি বলে। যেমন -আঁ-আঁশ, ইঁ-ইঁদুর ইত্যাদি।

 

Views: 12

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *