সমাস কাকে বলে

অর্থের দিক থেকে মিল যুক্ত দুইবার তত দিক পদের এক পদে পরিণত হওয়ার নাম সমাস।  যেমন মন রূপ  মাঝি= মনমাঝি। মাতা ও পিতা= মাতাপিতা। সিংহ চিহ্নিত আসন= সিংহাসন।

যেসব পদের সাহায্যে সমাস করা হয় তাদের মাঝে সাক্ষাৎ সম্পর্ক থাকতে হয়।  পদগুলো এর যুগে একটি বিশিষ্ট বুঝাবে। অনেক সময় পথ গুলো মিলে একটি পথ হয়ে মূল পদের অর্থই প্রকাশ করে।  দুই বা তার বেশি পথ এক পদে রূপ লাভ করলে তাতে অর্থে কোন হানি হয় না।

সমাস শব্দটির আভিধানিক অর্থ সংক্ষেপণ বা মিলন।  সময় দ্বারা একই সাথে দুটি কাজ সম্পন্ন হতে পারে।  যেমন

১। একাধিক পদ বা শব্দ একত্রিত করুন

২। একটি ভাগ্য বাকায়াসের সংযুক্ত করুন

যে কয়টি পদ মিলে সমাস হয়, তাদের প্রত্যেকটিকে সমস্যামান পদ বলে। যেমন রাজার পুত্র= রাজপুত্র। এখানে রাজার এবং পুত্র পদগুলো মিলে সমাস হয়েছে তাই রাজ্যের এবং পুত্র সমস্যমান পদ। এদের মধ্যে আবার দুটি অংশ আছে।  প্রথম অংশ এবং শেষ অংশ। প্রথম অংশটি কে পূর্বপদ এবং শেষ অংশটিকে বলে পরপদ। উদাহরণটিতে রাজার পূর্বপদ এবং পুত্র পরপদ। পূর্ব পদ ওপর ওপর নিলে যে পথ গঠিত হয় তাকে বলে সমস্ত পদ।  এখানে রাজপুত্র সমস্ত পদ। সমস্ত প্রতিরাত তো বুঝানোর জন্য পথটি কে রিলেশন বা ব্যাখ্যা করতে যে বাক্য তৈরি করা হয় তাকে বলে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহ বাক্য।

সমাসের প্রয়োজনীয়তা

সমাস বাক্য ও ভাষাকে সংক্ষিপ্ত ও সহজ করে।  সমাসের মাধ্যমে ভারতীয় ভাষা সুন্দর, সরল শ্রুতি মধুর হয়। যেমন সিংহ চিহ্নিত আসন এ ভাগ্যংশ টি সংযুক্ত হয়ে সমাজবদ্ধ পদ হিসেবে সিংহাসন পদে রূপান্তরিত হওয়ায় যেমন আকৃতি গত সংক্ষিপ্ত সাধিত হয় তেমনি শ্রুতি  মধুরতা সৃষ্টি হয়। অলংকরণ ও সাধিত শব্দ গঠনের ক্ষেত্রে সমাসের প্রয়োজন আছে। সুতরাং এক কথায় বলা যায় ,সমাসের ব্যবহারে বাক্য সরল, গাঢ়বদ্ধ, সৌষ্ঠবময় ও ঐশ্বর্যমন্ডিত হয়ে ওঠে। ফলে ছমাসের ব্যবহারে বাক্য ও শালীনতা সম্পন্ন হয়ে মনোমুগ্ধকর হয়। বিশেষ করে রচনায় সমাসের ব্যবহারে অল্প কথায় অধিক ভাব প্রকাশ করার দক্ষতা আয়ত্ত হয়।

Views: 7

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *