ছাত্র জীবনে সময়ের মূল্য

ছাত্র জীবনে সময়ের মূল্য

সময়ের মূল্য
সময়ের মূল্য

“সময়ের মূল্য
হায়রে হৃদয়
তোমার সঞ্চয়
দিনান্তি নিশান্তি শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়
নাই নাই নাই যে সময়।’’
মত্যের মানুষের চিরন্তন বাণীহারা কান্না নাই নাই, নাই যে সময়। পৃথিবীর আকাশ বাতাস, ওর অরন্য পর্বত ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত করে ওঠে সেই হাহাকার ময় ক্রন্দন ‘নাই নাই, নাই যে সময়।” অনন্ত প্রসারিত সময়ের যাত্রা পথ। পৃথিবীর পার্থিব মানুষ সময়ের সেই পাথরেখা ধরে অগ্রসর হয়।

সময়ের মতো মানব জীবন যদি অন্তহীন হতো তাহলে দুঃখ থাকত না মানুষের। সময় নিরবধি কিন্তু মানব জীবন সংক্ষিপ্ত।  এখানেই গরমিল।  মানুষ চার তার সংক্ষিপ্ত জীবন আয়তনের মধ্যে বৃহত্তর কর্মের উদযাপন। কিন্তু সময় তা মনজুর করে না।  কর্ম উদযাপনের পূর্বেই তার বিদায়ের ডাক এসে পড়ে। মানুষের কাছে সময় তাই অমূল্য ধন।

“সময় চলিয়া যায়

 নদীর স্রোতের প্রায়।”

বাস্তুবি কই নদীর স্রোতের মতো সময়ও সর্বদা অস্থির।  চিরন্তন প্রবাহমানতাই তার মৌল বৈশিষ্ট্য। মুহূর্তের জন্যেও কোথাও সে স্থির থাকে না।  কারো জন্য সে অপেক্ষা করে না। “চরৈবেতি চরৈবেতি” – চলো চলো চলো  এই অনাদ্যন্ত রবে ছুটে চলে তার মর্ম বাণী।  মানুষের জীবনেও সময়ের সেই অনন্ত ছন্দে সুর বেধেছে।  সময়ের অন্তহীন প্রবাহে সে ছুটে চলেছে জন্ম থেকে মৃত্যুর অভিমুখে। 

সময়ের মূল্যবোধের অর্থ

সময়ের মূল্য
সময়ের মূল্য

 প্রকৃত পক্ষে সময়ের যথার্থ মূল্যবোধই জীবনে সাফল্য অর্জনের সোপান। সময়ের মূল্যবোধ হলো যে সময়ের কাজ তা সেই সময়ে সম্পাদন করা।  যে সময় মত কাজ করে না পরাজয়িত তার ভাগ্যলিপি। সময়ের এই অবহেলার জন্যই তাকে একদিন অশ্রুমোচন করতে হবে। যে কৃষক ফসলের ঋতুতে ফসলের বীজ বপন না করে আলস্যে সময় অতিবাহিত করে, সে কিরূপে ফসল ওঠার সময় খামার পূর্ণ ফসল আসা করতে পারে? সময় চলে গেছে।  ফসলের ঋতু কবে সমাপ্ত হয়ে গেছে। এখন কেঁদে কিছু হবে না। কেননা- What  is past is past and past for ever. অর্থাৎ যা চলে যায় তা চলেই যায় এবং চিরকালের জন্য চলে যায়।

মানব জীবনেও সেই একই কথা।  জীবনে যখন শক্তি  থাকে, সামর্থ্য থাকে তখন আলসে অযথা কালক্ষয় করে জীবন খাটালে জীবন সায়াহ্নে অবশ্যই দুঃখভোগ করতে হবে। অতএব নির্দিষ্ট সময়ে কর্তব্য সম্পাদনের জন্য বিশেষভাবে যত্নবান হতে হয়।  তাই সমানুবর্তিতা।

মানব জীবনে সময়ের মূল্য 

সময়ের মূল্য
সময়ের মূল্য

সময় অনন্ত।  কিন্তু তা সীমাবদ্ধ। তার এক প্রান্তে জন্ম, অন্য প্রান্তে মৃত্যু। এ মৃত্যুর শাসনে জীবন সদা সংকুচিত। মানুষ চায় সময়ের অন্তহীনতার মত অন্তহীন জীবন। কিন্তু পায় না।  মানব জীবনের চরম ট্রাজেডি এখানেই।  পলায়তার পর সময়ের দিকে তাকিয়ে বিষাদ ময় কণ্ঠে কবি সুইর্নবান শেষ পর্যন্ত বলেন- “His life is a vision or watch between sleep and asleep.’’ দুই প্রান্তেই ঘুম, ঘুমের অন্ধকার, মাঝখানে শুধু একটুখানি চোখ মেলেই জীবন। জীবনের এই সীমাবদ্ধতার জন্য বাংলার কবি অশ্রু বিসর্জন করেছেন-  “ এপার গঙ্গা অপারগঙ্গা মধ্যখানে চড়া এরই নাম জীবন যা শুধু ঘন্টা আর মিনিটের সমাহার মাত্র।’’ জীবন অনন্ত সময়ের ভগ্নাংশ মাত্র।  জীবনের এত সীমাবদ্ধতার জন্যই সময় আমাদের কাছে পরম আকর্ষণীয়।

সময়ের সংক্ষিপ্ততা

 সদা চঞ্চল সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না।  সময়ের অভিধানে তোষামোদ বা চোখ লজ্জা বলে কোন শব্দ নেই।  ঐশ্বর্যের বন্ধনে সময়কে বেঁধে রাখা যায় না।  অর্থবান ধনীকের ইচ্ছামত জগতের যে কোন দ্রব্য ক্রয় করতে পারেন। পারেন হিরা মানিকের যেকোনো খুনি ক্রয় করতে।  কিন্তু ধাবমান সময়কে কোন মূল্যে ক্রয় করা যায় না। সময় মানুষের সকল ক্ষয়ক্ষমতার উর্ধ্বে।  কোন শক্তিকে তার ভ্রুকুটি দেখাতে পারে না। কারো ব্যাকুল প্রার্থনা বা কাতর অনুনয় তাকে এতটুকু বিচলিত করতে পারে না।  পার্থিব জগতের সমস্ত কিছুকে অনায়াসে উদ্ধত অবহেলা করে সময় বাধা বন্ধন হারা রূপে ছুটে চলে যায়।  তার কোন কিছুর প্রতি আসক্তি নেই, নেই ও হয়তো আকর্ষণ।  শুধু চলা,চলা, চলা- 

দিন যায় ক্ষণ যায় সময় কারো নয়

বেগে ধায়, নাহি  রহে স্থির,

সহায় সম্পদ বলো সকলে ঘোচায় কাল

আয়ু যেন শৈবালের নীর।

আমাদের জীবনে কোন বস্তুটির মূল্য কতখানি তা আমরা অনেক সময়  নির্ণয় করতে পারি না।  তাই আমাদের জীবনে বহু অমূল্য সময় হারিয়ে যায়।  কোন সম্পদ হারিয়ে গেলে তা ফিরে পাবার সম্ভাবনা থাকে।  কিন্তু সময় একবার হারিয়ে গেলে তাকে শত চেষ্টাতেও ফিরে পাওয়ার উপায় নেই। আজকের এই রমণীয় সন্ধ্যা টি তার বর্ণচ্ছটা নিয়ে অন্তর্নিহিত হলে কোটি কোটি যুগের প্রার্থনাতেও তা আর ফিরে আসবেনা।  প্রতিটি মুহূর্ত আপনার সমগ্র সম্ভারনা নিয়ে উপস্থিত হয়। আমাদের আহ্বান করে তার ঐশ্বর্য গ্রহণ করে আমাদের  স্বল্পস্থায়ী জীবনকে সার্থকতার গৌরবে অবিনশ্বর করে তুলতে। কিন্তু পরক্ষণেই যেন কার অলক্ষ্য আদেশে অনন্তকালের জন্য অনন্তের বুকে বিলীন হয়ে যায়।  মুহূর্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কিন্তু তার সম্ভাবনা বিশাল। জীবন ক্ষণস্থায়ী কিন্তু তার গৌরব চিরস্থায়ী।  সেজন্য একটি ক্ষুদ্র মুহূর্তও উপেক্ষা নিও নয় অত্যন্ত মূল্যবান। সদা জাগরুক মন নিয়ে সময়ের প্রতিটি ক্ষুদ্র মুহূর্তকে কাজে লাগাতে হবে।  যদি এদের ক্ষুদ্র বলে বিফল করে দেই তাহলে আমাদের জীবন ব্যর্থতার হাহাকারে ভরে যাবে। জীবন পরিণত হবে জড় বস্তুতে কয়েকটি বৈচিত্র্য হীন বছরের সমষ্টিতে।  তাই মানুষ যদি সময়ের অপব্যবহার না করে প্রত্যেকটি মুহূর্তকে সার্থক করে তুলতে পারে তাহলে তার ক্ষণস্থায়ী জীবন জ্ঞান ও কর্মের মহিমা অনন্তকাল ধরে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। তার অস্তিত্ব অবিনশ্বর ইতিহাসের পরিণত হবে।  মরেও সে মানুষের অন্তরে অমর হয়ে থাকবে।  যুগে যুগে স্মরণ করে কবি কণ্ঠে দলিত হয়ে উঠবে-

“এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ

মরনে তাহাই তুমি পড়ে গেলে দান।’’

আর যারা  আলস্যে প্রবেশ হয়ে এই অমূল্য সময়কে হেলায় নষ্ট করে, মৃত্যুতেই তার জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে। এজন্য একজনের শতবর্ষব্যাপী কর্মহীন জীবন অপেক্ষা অন্য জনের মাত্র কয়েকটা বছরের কর্মজল জীবন সাফল্যের গৌরবে দীপ্তিমান হয়ে  ওঠে। সময়ের সদ্ব্যবহার করতে শিখলেই সময় শ্রেষ্ঠ সম্পদের পরিণত হয়।

 সময়ের সদ্ব্যবহার

সময়ের সদ্ব্যবহার ব্যক্তি মাত্রই কাম্য।  প্রত্যেক মানুষকেই একথা ভাবতে হবে যে যতক্ষণ কর্মক্ষমতা আছে, ততক্ষণ কোন না কোন কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে। সৎকর্ম, সৎচিন্তা, সৎবাক্য ইত্যাদির মাধ্যমে জীবনের প্রতিটি মূল্যবান মুহূর্তের মূল্যায়ন করা উচিত। তাইতো চেষ্টার সিঙ্গু এর কন্ঠে ধ্বনিত হয়- “সময়ের যথার্থ মূল্য কি তা আমি জানি যেমন করে পারো সময়কে ছিনিয়ে নাও, অবরোধ করো এবং এর প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগাও ও উপভোগ করো।  যখনই যা কাজ করতে পারো তা কালকের জন্য তুলে রেখো না।’’ বিশৃঙ্খলভাবে কাজ করলে চলবে না, যে সময়ের যে কাজ ঠিক সে সময় তা করতে হবে এবং তাকে যথাসম্ভব দ্রুত গতিতে সম্পন্ন করতে হবে। বিশ্রাম ও আমোদ প্রমোদে যে সময় ব্যর্থ হয় তা উপভোগে নয় কারণ আমাদের কর্ম ক্ষমতাকে অটুট রাখতে হলে বিশ্রাম ও প্রমোদের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাই কবি বলেছেন-

“বিশ্রাম কাজের অঙ্গ একসাথে গাঁথা

 নয়নের অংশ যেন নয়নের পাঁতা।’’

কিন্তু বিশ্রামের একটা সীমা আছে।  সে সীমাকে অতিক্রম করলে তা আলসে পরিণত হয়।  কাজেই ঠিক সীমারেখার মধ্যে বিশ্রাম ও আমদ প্রমদকে উপভোগ করতে হবে।  আর তা করতে হবে আমাদের কর্ম ক্ষমতাকে অটুট রাখার উদ্দেশ্যে।  মনে রাখতে হবে দীর্ঘসূত্রুতা যেমন সময়কে অপহরণ করে তেমনি সময়ানুভূতিটা সময়কে বর্ধিত করে দেয়।

সময় অপচয়ের ফলশ্রুতি

 আলস্য, নিয়মানুবর্তিতা  পরমোকাপেক্ষিতা, উদাসীন্য ইত্যাদির বদ অভ্যাসের দরুন সময় নষ্ট হয়। আর মানুষের মধ্যে এসব গুণাবলীর প্রাচুর্য দেখা যায়।  সময়কে ছোঁকে দেখা যায় না, তার অনন্ত যাত্রার সুদূর ঘন্টাধনীয় শোনা যায় না। মানুষ তাই মনে করে সময়ও বুঝি তার  আলসের অনঢ়  পাথরের মতো স্থির হয়ে আছে। তাই সময় পৃথিবীর অলস কর্মবিমুখ মানুষদের ফাঁকি দিয়ে তার অনাদি যাত্রা পথে  প্রস্থান করে। সে কিন্তু পৃথিবীর সেই অলস করবো বিমুখদের আদর্শ ও কর্মবিমুখীতাকে ক্ষমা করে না। সে তাদের কপালে দুঃখময় ভবিষ্যতের অভিশাপ এঁকে দিয়ে প্রস্থান করে।  সময়ের উপকারী ব্যাক্তিদের এই চরম পরিণতি দেখে যদু গোপাল দুঃখ করে বলেন-

“ সময় হইলে গত কিন্তু একবার

 পারো কি কিনতে কেহ  ক্ষণমাত্র তার?

রাশি রাশি ধন দাও অমূল্য সময়

 একবার গেলে তার আসিবার নয়।

 নিতান্ত নির্বোধ যেই শুধু সেই জন

অমূল্য সময় করে বৃথাই যাপন।’’

কিন্তু যারা আদর্শ ও জনতা পরিহার করে নিজেদের শক্তি ও সামর্থকে স্বদেশ ও বিশ্বের কল্যাণপুত্র কর্মে নিয়োজিত করে তাদের মাথায় খালের দেবতার আশীর্বাদ ঝরে পড়ে।  তারা কখনো জীবনের দুঃখ পায় না।  জীবনে সঙ্গে বা সময়ের সঙ্গে যারা প্রবঞ্চনা করে না সময়ও তাদের সঙ্গে প্রবঞ্চনা করে না।  প্রকৃত অর্থে বাঁচতে জানে তারাই।

 সময় অনুবর্তিতা ও আধুনিক বিশ্ব

যে জাতি শ্রমের মূল্য দিয়ে তাদের উন্নতি অবধারিত।  দু’ দুটো বিশ্বযুদ্ধে বিধ্বস্ত জার্মান, জাপান আর ইটালির উন্নতির পিছনে কাজ করেছে তাদের সময় জ্ঞান। যথা সময়ে কর্ম সম্পাদন করার মানসিকতাই তাদের উন্নতির মূল।  আমেরিকা, রাশিয়া, ব্রিটেন সময়ানুবর্তিতার স্বাক্ষর রেখেছে তাদের প্রতিদিনের চিন্তায়, পরিকল্পনায়,কর্মে। পৃথিবীর সমৃদ্ধ জাতিসমূহের ইতিহাস, সময়ের নিষ্ঠা পূর্ণ ব্যবহারের ইতিহাস।

মনীষীদের সমানুবর্তিতা

সময়ের মূল্য
সময়ের মূল্য

 বিজ্ঞানী, কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, দেশপ্রেমিক, সাধক, তপস্বী সকলেই সময়ের সদ্ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। সময়ের সদ্ব্যবহার জানতেন বলেই বিদ্যুৎ রাজ্যের জনক মাইকেল ফ্যারাডে অবসর সময়ে গিয়ে শ্রুতকীর্তি বিজ্ঞানীদের বক্তৃতা শুনতেন। বিশ্বনন্দিত সাহিত্যিক ম্যাক্সিম গোর্কি রেলস্টেশনে গুলি বা দোকানে বয়ের কাজের ফাঁকে ফাঁকে গ্রন্থাগার এ গিয়ে ভালো ভালো বই পড়তেন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর পথের লাইট পোস্টের আলো লেখাপড়া করতেন।  সময়ের সদ্ব্যবহার করে নোবেল বিজয়ী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বল্প সময়ে জীবনের অনেক অমর লেখা পৃথিবীতে রেখে গেছেন।  তেমনি কাজী নজরুল ইসলামও।  ও কাজেই দেখা যায়, মহামনীষীগণ সময়ের মূল্য দিতে জানতেন। আর সেজন্যই তারা জগৎবিখ্যাত হয়েছেন।

 আধুনিক যুগে সময়ের মূল্য

প্রতিদিন নিয়ম করে ব্যতিক্রমহীন ভাবে সময়ের সদ্ব্যবহার করা উচিত।  বিজ্ঞানের নব নব আবিষ্কারের ফলে সময়ের বর্তমান মূল্য আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। আবিষ্কৃত হয়েছে শব্দের গতির চেয়েও বেগবান কনকর্ড বিমান।  মানুষ উড়ে চলেছে  চাঁদে।  বিশ্ব আজ মানুষের হাতের মুঠোয়।  জীবনে এসেছে গতি।  তাইতো আল্লাহ মা ইকবালের কন্ঠে শুনি-

“দুর্বার তরঙ্গ এক বয়ে গেল তীব্র বেগে

 বলে গেল আমি আছি যে মুহূর্তে আমি গতিমান,

 যখনই হারাই গতি সে মুহূর্তে আমি আর নাই।’’

কাজেই বর্তমানে সময়ের মূল্য প্রধান ছাড়া মানুষ গতিহীন হয়ে পড়ে, হয় স্থবির, চলৎ, শক্তিহীন, মৃত প্রায়।

ছাত্রজীবনের সময়ের মূল্য

 ছাত্রজীবন ওই জীবনকে গড়ে তোলার প্রকৃষ্ট সময়।  তাই প্রত্যেক ছাত্রীর এই সময়ের সদ্ব্যবহার করা উচিত।  যে ছাত্র বছরের প্রথম হতে অগ্রাধিকার দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যায় সাফল্যের স্বর্ণ শিখরে আরোহন তার জন্য সহজ হয়। তবে সারাদিন পড়ালেখার একঘেয়েমির মাঝে বৈচিত্র প্রয়োজন। এজন্য “পড়ার সময় পড়া খেলার সময় খেলা’’ এটি হবে তাদের সময়ের সদ্ব্যবহারের মূল মন্ত্র। আর তিল তিল করে সময়ে সদ্ব্যবহার করলে সাফল্য অবধারিত।

 বাংলাদেশের সময়ের মূল্যবোধ

সময়ের মূল্য
সময়ের মূল্য

 বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই অশিক্ষিত। তাদের কাছে সময় জ্ঞান স্পষ্ট নয়। , তাই আমাদের দেশে সময়ের মূল্যবোধ সম্পর্কে এখনো সচেতনতার সৃষ্টি হয়নি।  ফলে জাতীয় জীবনে এখনো গতি ফিরে আসেনি।  শিক্ষা জীবনসহ জাতীয় জীবন হয়ে পড়েছে পঙ্গু।  জনগণকে শিক্ষিত করে তুলতে পারলেই আমাদের দেশে সময়ের মূল্যবোধ জাগ্রত হবে।

 

শৈশবই কর্মজীবনে প্রবেশের তোরণদ্বার। এ সময়ই জীবনের প্রস্তুতির কাল।  ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সকল দায়িত্বভার গ্রহণের যোগ্যতা এ সময়ে অর্জন করতে হয়।  শৈশবকালের প্রতিটি মুহূর্তকে যথাযথভাবে ব্যবহার করলে এবং অমূল্য সময়ের অপচয় না করে তার প্রতিটি দুর্লভ মুহূর্তকে জীবনক্ষেত্রে প্রয়োগ করলে পরবর্তীকালে সুখ শান্তি পাওয়া যায়। শৈশবেই আমাদের উপলব্ধি করতে হবে যে জীবন মূল্যবান এবং তার অন্তর্ভুক্ত সময় অত্যন্ত সীমিত ও অমূল্য। কর্মই সময় পরিমাপের একমাত্র চাবিকাঠি।  তাই জীবনে মানুষ কতখানি বেছেছে তা বড় কথা নয়, সে জীবনে কত মহৎ কর্ম সম্পন্ন করেছে এবং সেইসব কর্মানুষ্ঠানের এর ফলে মানব সমাজ কতখানি উপকৃত হয়েছে, তাই তার সাফল্যের বিচারক। সময় অনুবর্তিতা জীবনে সাফল্য লাভের চাবিকাঠি এবং সময়ানুবর্তিতার মাধ্যমে কল্যাণপূত কর্মেই জীবনের চরম সার্থকতা।

 

Views: 4

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *