শ্রমের মর্যাদা

শ্রমের মর্যাদা

শ্রমের মর্যাদা
শ্রমের মর্যাদা

পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি। রিশ্রম ছাড়া জীবনে উন্নতি লাভ করা অসম্ভব।  অলস ও শ্রমবিমুখ মানুষ জাতির অভিশাপ। পরিশ্রমই মানুষ সভ্যতার বিকাশের নিয়মক। কোটি কোটি মানুষের পরিশ্রমে তিলে তিলে গড়ে উঠেছে বর্তমান সভ্যতা। তাই নীতির বিচারে পরিশ্রমিক মানুষই সম্মানের যোগ্য পাত্র বলে বিবেচিত হওয়া উচিত। অলস কর্ম বিমুখ জীবন যাপনের মধ্যে কোন গৌরব ও কৃতিত্ব নেই  পরিশ্রমই মানবজীবনকে সম্মানের মুকুট পরায়। 

জীবনের সকল ক্ষেত্রেই পরিশ্রমের মর্যাদা ও পরিহার্য।  সর্বস্তরের মানুষের পক্ষে পরিশ্রমের মর্যাদাবোধ পরিশ্রমই যোগ্য পুরস্কার।  পরিশ্রম লব্ধ কর্মের সাফল্যের যে আনন্দ তা সত্যই নির্মল ও উপযোগী।  কথায় আছে পরিশ্রময় সৌভাগ্যের প্রসূতি।  বিখ্যাত দার্শনিক কালাইল বলেছেন ‘’মানুষের জন্য শ্রম পবিত্র ও সম্মানজনক।” জৈনক মনীষী বলেছেন ‘’ক্ষণস্থায়ী জীবনটাকে পরিশ্রম দ্বারা যত বেশি পারা যায় কাজে লাগাইয়া লও।” প্রকৃতপক্ষে পরিশ্রমই সৌভাগ্যের মূলমন্ত্র নিহিত।

মানব জীবনে শ্রমের গুরুত্ব

শ্রমের মর্যাদা
শ্রমের মর্যাদা

 মানবজীবনে পরিশ্রমের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব অনস্বীকার্য।  কর্মহীন জীবন নিশ্চল ও নিথর।  জীবন ধারণের জন্য মানুষকে কোন না কোন কাজ করতে হয়।  এ পৃথিবীতে যে যত বেশি শ্রমশীল, সে ততো বেশি উন্নতি লাভ করতে পারে। মানুষের যত আবিষ্কার যত উদ্ভাবন সব কিছুরই মূলে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম। পরিশ্রম লব্ধ বস্তুই উপভোগ্য। কর্মীরা কর্মী প্রশান্তি খুঁজে পায়।  প্রার্থীর জীবনে বেঁচে থাকার জন্য শ্রমের বিকল্প নেই।  কায়িক পরিশ্রমের দ্বারা মানুষ জীবজগতে কেতি অর্জন করতে পারে। এমনকি প্রাকৃতিক শক্তিগুলোর ওপরও নিজের প্রভাব কায়েম করতে সক্ষম হয়। পরিশ্রমের বলে।  কাজী জীবন সংগ্রামে জয়লাভ করতে হলে পরিশ্রম করতে হবে।

শ্রমের প্রকারভেদ

শ্রমের মর্যাদা
শ্রমের মর্যাদা

 শ্রম দু প্রকার শারীরিক ও মানসিক।  দেশ ও জাতির আর্থিক ও মানসিক উভয় প্রকার উন্নতির জন্যেই শারীরিক ও মানসিক শ্রম অত্যাবশ্যকীয়।  অর্থাৎ প্রত্যেক কাজেই শারীরিক ও মানসিক শ্রম সম গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তা সত্বেও দেশে দেশে কর্মভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা প্রচলিত হবার ফলে পেশাগত দিক থেকে সৃষ্টি হয়েছে ভিন্নতা।  বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই পেশাগত ভিন্নতার বিচারে মানুষের সামাজিক মর্যাদা নিরূপিত হয়।  আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতার প্রভাবে শারীরিক পরিশ্রমের মূল্য দিন দিন কমে যাচ্ছে অথচ শ্রমজীবী মানুষের গড়ে উঠেছে আজকের সভ্যতা।

মানসিক উৎকর্ষতার জন্য শ্রম

শ্রমের মর্যাদা
শ্রমের মর্যাদা

 মানসিক উৎকর্ষতার জন্য শ্রমের আবশ্যকতা আছে।  কথায় আছে ‘’অকর্মণ্য মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা।” পরিশ্রমী ব্যক্তির মন ও মস্তিষ্ক সবসময়ই পরিচ্ছন্ন থাকে।  পরিশ্রম কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে মানুষের ভেতরকার সুপ্ত প্রতিভাকে জাগিয়ে দেয়। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি ধনী ও সম্পদ সারির লোক কঠোর পরিশ্রমী ছিলেন  অলস লোক দরিদ্র ও প্রতিভা শূন্য হয়।  শারীরিকভাবে পরিশ্রম করলে শরীর ও মন ভালো থাকে। মানসিক পরিশ্রমের ফলে মানুষের হৃদয়ের মালিন্য বিদুরিত হয় উন্নত মানসিক শক্তিতে বলিয়ান হয়ে আত্মবিশ্বাসী ও আত্মপ্রত্যয়ী হয়।

শ্রম সম্মান হানিকর নহে

শ্রমের মর্যাদা
শ্রমের মর্যাদা

কাইক পরিশ্রম আত্মসম্মানের পক্ষে কিছু মাত্র হানিকরজনক নহে; বরং মানব সমাজের উন্নতির শ্রেষ্ঠ উপায়। সর্বাধিক পার্বিক উন্নতি ও উদ্বুদ্ধ্বয় শ্রম ও সামুদ্রের উপর প্রতিষ্ঠিত। মানবজাতির স্থিতি ও পরিপুষ্টির গোড়ায় রয়েছে উপহার্য শ্রম শক্তি।জগতের সকল কাজই আশ্রম সাপেক্ষ।  তায়েক পরিশ্রমেই শিল্পী ও বিজ্ঞানী অধ্যাপনী শক্তিকে বাস্তবসত্ত্বেও পরিণত করে উহাকে মানুষের মঙ্গলে নিয়োজিত করে।  মানসিক শক্তি ও কায়েক শ্রম অঙ্গা অঙ্গেভাবে জড়িত।  একের অভাবে অন্য কেউ পঙ্গ হয়ে পড়ে।  চিন্তা ও চেষ্টা, বুদ্ধি ও শক্তি, অর্থ ও সামর্থ পরস্পর যুক্ত হলে এ জগতে সকল কাজই সিদ্ধ হতে পারে।

মনীষী কালা ইল বলেছেন  আমি মাত্র দুটি লোককে সম্মান করি, সম্মানের যোগ্য তৃতীয় নেই। প্রথমত আমার সম্মানের পাত্র ঐ কৃষক এবং শ্রমও শিল্পী যিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে অন্য ও বস্ত্রের সংস্থান করেছেন মানুষ হয়ে মানুষের মত জীবন যাপন করেছেন।ঐ যে  আতপতপ্ত পান্ডুর বদন মন্ডল, ঐ যে ধুলিধূসর দেহ,ঐ যে কর্মকঠোর কর্কশ কর যুগল, এটাই আমার শ্রদ্ধার যোগ্য।  দ্বিতীয়তঃ আমার সম্মানের পাত্র তিনি যিনি আত্ম উন্নতি সাধন করতে আছেন যিনি শরীরের নয় আত্মার খাদ্য সংস্থা নিয়ে জ্ঞান ধর্ম অনুশীলনে ব্যাপৃত আছেন। এই দু ব্যক্তির আমার ভক্তি ভাজন।

শ্রমশীল ব্যক্তির উদাহরণ

শ্রমের মর্যাদা
শ্রমের মর্যাদা

 পরিশ্রমী ব্যক্তি জীবনের পেয়ালা সম্পূর্ণরূপে পান করার সুযোগ পায়।  এই পৃথিবীতে যারা উন্নতি লাভ করেছে তারা সবাই ছিলেন পরিশ্রমে।  ওয়াশিংটন, আব্রাহাম লিংকন, বিজ্ঞানী আইনস্টাইন এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আমেরিকার একজন প্রেসিডেন্ট ঝিমি কাটার প্রথম জীবনে বাদাম বিক্রি করতেন।  ইংল্যান্ডের এককালীন প্রধানমন্ত্রী রামজেম্যাক ডোনাল্ডও প্রথম জীবনে একজন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ ছিলেন।

ব্যক্তিগত, সমষ্টিগত বা জাতিগত সকল উন্নতির্মূলে রয়েছে শ্রম ও অধ্যবসায়।  যে জাতি যত পরিশ্রমী সে জাতি তত উন্নয়নশীল।  পৃথিবীর ইতিহাসে যে সকল জাতি উন্নতি করেছে, তার মনে রয়েছে শ্রমশীলতা।  ব্রিটেন, আমেরিকা, জার্মান, জাপান, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া ইত্যাদি উন্নত দেশসমূহ বলেই আজ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে। শ্রমের কারণেই ইউরোপ, আমেরিকা মহাদেশ আজ আধুনিক সভ্যতার লীলাভূমিতে পরিণত হয়েছে।  এসব দেশের কাইক পরিশ্রমকে কখনো মর্যাদা কর বলে মনে করা হয় না।  আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ নিজ হাতে ঘর ঝাড়ু দিতেন ও জুতা সেলাই করতেন।  ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু খলিফা হয়েও কাপড় কাধেঁ নিয়ে বাজারে যেতেন। কাজেই ব্যক্তিগত পরিশ্রম হতে সামষ্টিক গত পরিশ্রময় জগতের বর্তমান সভ্যতা সৃষ্টি করেছে।  আজও মানুষের পরিশ্রমের বিরাম নেই।  পাশ্চাত্য দেশসমূহ অন্যান্য জাতির উপর একমাত্র ক্রমশক্তি বলেই প্রভাব বিস্তার করতে সমর্থ হয়েছে।

জগতে যে সকল মহাপুরুষেরা নিজেদের বা জাতির উন্নতি সাধন করেছেন তারা সকলেই ছিলেন পরিশ্রমে।  পৃথিবীতে যে সকল কীর্তি স্থাপিত হয়েছে তার মূলে রয়েছে মানুষের শ্রম ও অধ্যাবসায়।  এত যা মানুষের উন্নতির মূল তা হেয় হতে পারে না, পরন্ত তা গৌরব ও মর্যাদার বস্তু।

জাতীয় জীবনে শ্রমের প্রয়োজনীয়তা

শ্রমের মর্যাদা
শ্রমের মর্যাদা

 আমাদের বেকার সমস্যা দূর করে জাতীয় জীবনকে সুন্দরভাবে গঠন করতে হলে শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ভিন্ন অন্য কোন গত্যান্তর নেই। আজকাল মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বহশ শিক্ষিত লোক কর্মের অভাবে বেকার হয়ে ঘরে বসে আছেন।  বেকার সমস্যার প্রধান কারণ হলো চাকরির সংস্থার সীমাবদ্ধতা।  স্বীকৃত ব্যক্তি মাত্রই চাকরিপ্রত্যাসি এবং কৃষি শিল্পাদি কায়েমজনক কার্যকে কুসংস্কারবশত হেনা ভেবে উহা করতে অনিচ্ছুক। এটা সত্যি আমাদের জাতিগত দুর্বলতার কারণ।  কায়িক কর্মে কোন হীনতা নেই। আলোস্য ও পরান্ন  ভোজনে হীনতা। কর্ম মাত্রই মহৎ কারণ ঐ সকল কর্মে  ধন উৎপন্ন হয়। চাকরি প্রকৃতি কর্মে ধন উৎপাদন হয় না, হস্তান্তর হয় মাত্র। উহাতে ব্যক্তি বিশেষের অতঃপর জন হয় বটে কিন্তু দেশ ও জাতির ধন বৃদ্ধি হয় না।  দেশের কৃষি জাত ও শিল্প জাত দ্রব্যাদি বিদেশে রপ্তানি হলে বহু অর্থাগমন হতে পারে।  উহাতে দেশ ও জাতির উন্নতি নিহিত আছে। 

শ্রমের মর্যাদা বাড়ে, কমে না।  পরিশ্রমকে যারা অবজ্ঞা করে তারা অপদার্থ।,অকর্মণ্য। যিনি সত্যি কারের পরিশ্রমই তিনি যে কোন প্রকার ভয় বা লজ্জা কে অগ্রাহ্য করে নিজের কাজ করে যান।  এতে তার প্রতি লুকের শ্রদ্ধাবোধ কমে না।  জীবনের সর্ব ক্ষেত্রে পরিশ্রমের মর্যাদা ও পরিহার্য।  শ্রমের প্রতি মর্যাদা বোধ না থাকলে ব্যক্তিগত ও জাতীয় কল্যাণ অসম্ভব।  পরিশ্রম মানুষকে দৈহিক ও মানসিক প্রশান্তি দান করতে পারে।  সমৃদ্ধির জন্য সকলকে ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত।

 

Views: 3

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *