মাছ চাষে বাংলাদেশ

মাছ চাষে বাংলাদেশ

মাছ চাষে বাংলাদেশ
মাছ চাষে বাংলাদেশ

মানব সভ্যতার আদিকাল থেকেই খাদ্য বছর ও বাসস্থান এ তিনটি বস্তুর মানব জীবনের প্রধান মৌলিক চাহিদা রূপে পরিগণিত ও স্বীকৃত হয়ে আসছে।  আবহাওয়া আর প্রকৃতি অনুযায়ী বিশ্বের নানান প্রান্তের নানা জাতির মানুষের জন্য নানা রকমের খাদ্য নির্ধারিত হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী খাদ্য বাস গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশের মানুষদের খাদ্য বাসি ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের প্রভাব রয়েছে।  বাঙালির প্রধান খাদ্য হলো ভাত।  আর নদীমাতৃক সাগর কন্যা বাংলাদেশের শুধুমাত্র নদী নয় শিরা উপশিরা মত চড়িয়ে টাকা নদ নদীর সঙ্গে রয়েছে অসংখ্যা কাল বিল, হাওয়ার বাওর, পুকুর,ঝিল। এই জনপ্রতী বঙ্গভূমি এককালে ছিল হাজার রকম মাছের ভরা।  বাঙালি নামের আগে তাই যুক্ত ছিল প্রবাদপ্রতিম বিশেষত্ব মাছে ভাতে বাঙালি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় বর্তমানে বাংলাদেশের সেই ম্যাচেও বাঙ্গালীদের পাকে বাঁধ জুটিও মাছ জোটে না। বাঙ্গালীদের অন্যান্যতম খাদ্য এই মাসের অভাব দূর করে প্রয়োজনীয় বিষয় চাহিদা পূরণ ও দেশের এত সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে মৎস্য চাষ কর্মসূচিকে একটি বিপ্লব রূপে বাংলাদেশ গ্রহণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদ

মাছ চাষে বাংলাদেশ
মাছ চাষে বাংলাদেশ

একসময় নদনদী খাল, বিলের প্রচুর মাছ উৎপন্ন হতো। মাছের পোনা ও ছাড়তে হতো না।  প্রাকৃতিক উপায়ে জান্নাতে হাজার রকম সুস্বাদু মাছ। বাঙ্গালীদের ঐতিহ্যের সাথে জড়িয়ে থাকতো রুই, কাতলা ,ইলিশ, পাঙ্গাশ, শোল, বোয়াল, আর কই সিং এর কথা। এছাড়া আছে সামুদ্রিক মাছ।  মিঠা পানির মাছের প্রাচুর্যের সেই কালের সামুদ্রিক মাছের প্রয়োজন হতো না।  কালক্রমে নানা কারণে বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদের অভাব দেখা দিয়েছে।

মৎস্য চাষে বিভিন্ন সমস্যা

মসলা শুভ প্রশাসনের ক্ষেত্রে বর্তমানে অনেক বাধা ভিন্ন রয়েছে।  এসবের মধ্যে আধুনিক প্রযুক্তির অভাব, ব্যাংক ঋণের অভাব,  মৎস্য চাষের চাষীর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার অভাব, পোনার মৃত্যু, পোনা মাছ ও ডিমওয়ালা মাছ শিকার, মাছ চুরি, বিষ প্রয়োগ ইত্যাদি দুর্নীতি প্রতিরোধের অভাব, নদী, নালার পানির দূষিত করণ ইত্যাদি।

মৎস্য চাষ বা রূপালী বিপ্লব

বর্তমান বিশ্বের বাজার অর্থনীতির অন্যান্য অতি প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী সাথে যুক্ত হয়েছে মৎস্য সম্পদ।  বিশ্ববাজারে মাছের বিপুল চাহিদার কারণে বাংলাদেশে মশার চাষ এক বিপুল সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।  নদীমাতৃক বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা রয়েছে যা পরিকল্পিতভাবে মশা চাষে উপযুক্ত ক্ষেত্র। এগুলো খাল বিল, হাওর বাওর ,পুকুর ঝিল ইত্যাদি নামে পরিচিত। বর্ষাকালে বর্ষার পানিতে এগুলো ডুবে থাকে।  মাস জন্মায় প্রচুর।  তবে শুধুমাত্র বর্ষার পানির উপর নির্ভর না করে এগুলো নদীর সাথে যুক্ত করে বাদ ও সুইটি গেটের ব্যবহারের মাধ্যমে জোয়ার ভাটা খেলিয়ে পরিকল্পিতভাবে উন্নত জাতের মৎস্য চাষ করে প্রচুর পরিমাণ মৎস্য সম্পদ উৎপাদন করা যেতে পারে।

মাছ চাষে বাংলাদেশ
মাছ চাষে বাংলাদেশ

আমাদের মাছের অভাব পূরণ করতে হলে মাছ চাষের বিকল্প নেই।  নদীমা থেকে দেশে মৎস্য চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।  মাত্রা শুধুমাত্র আজ প্রয়োজন নয়, জাতীয় অর্থনীতি বিকাশের ক্ষেত্রে তার লাভজনক আয়ের উৎস ও বটে। এই প্রেক্ষাপটে মাছ চাষে জনগণকে উদ্বোধন করার জন্য সরকার ঘোষণা করেছে রূপালী বিপ্লবের। একখানে সোনালী আঁশ পাটের জন্য যেমন বাংলাদেশের ছিল আন্তর্জাতিক খ্যাতি, তেমনি রূপালী আশের মাছ আমাদের দেশের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ যা এনে দিতে পারে উন্নয়নের সঙ্গে বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র। গ্রামীণফোন যে দরিদ্র বিমোচনের এক যুগান্তকারী সমাধান হতে পারে মৎস্য চাষ।  গ্রামাঞ্চলে অনেক পুকুর ও জলাশয় এই আজকাল মাছের চাষ হচ্ছে।  বাণিজ্যিক মশা কামরূপ গড়ে উঠেছে বেশ কটি। উপকূলীয় অঞ্চলের চিংড়ি চাষের ব্যাপক সমপ্রসারণ হচ্ছে। বর্তমানে চিংড়ি চাষ আমাদের রপ্তানি আয়ের একটি বড় উৎস।  নানা প্রকার বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি গ্রহণ করে সঠিক উপায়েও পদ্ধতির সুস্বাদু এবং দ্রুত বর্ধনশীল মাছ চাষের জনগণকে উদ্বোধন করে তুলতে পারলে বাংলাদেশ মাছ চাষের ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল।  বর্তমানে আমাদের দেশে মৎস্য ও মৎসজাতপূর্ণ রপ্তানির মাধ্যমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যায়।

সরকার গৃহীত প্রকল্পের বর্ধিত বাস্তবায়ন হলে এবং মৎস্য চাষ কি সমপ্রসাদিত করার লক্ষ্যে জলাশয় গুলোতে আধুনিক পদ্ধতিতে ও পরিকল্পিতভাবে মাছ চাষের কার্যকরী ও যথার্থ যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে পুকুর মালিকদের ঋণ, কারিগরি ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে সরকারি সহযোগিতা প্রদান করা হলে, বাংলাদেশের মাছ চাষের সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচিত করতে পারবে। 

Views: 14

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *