বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা

বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা

বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা
বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা

শিক্ষা ক্ষেত্রে সূচনীয় পশ্চাদপদতাই আমাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অনগ্রসরতার পেছনে প্রধান ও মূলের কারণ। সুতরাং আত্মসামাজিক ক্ষেত্রে উন্নতি ও অগ্রগতির যে আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা বলা হয়ে থাকে যথার্থতা বাস্তবায়িত করতে হলে সর্বাগ্রে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে প্রাথমিক শিক্ষার প্রতি। প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার মূল ভিত্তি। উন্নয়নের জন্য অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা যা গ্রহণে শিক্ষার্থী বা অভিভাবকদের শাস্তি পেতে হয়।

বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার কারণ

বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা
বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা

 শিক্ষাকে সাধারণভাবে জাতির মেরুদন্ড বলা হয়ে থাকে। কিন্তু অন্যান্য স্তরের শিক্ষা অপেক্ষা প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রেই এ কথাটা বেশি করে প্রযোজ্য। সাধারণত প্রথম হতে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষাকে প্রাথমিক শিক্ষা বলা হয়। ৫৫ হাজার ৫৯৮ বর্গমূলের মানচিত্রে প্রায় ১৬ কোটি লোক বাস করে। জনসংখ্যার তুলনায় ক্ষুদ্র আয়তন বিশিষ্ট দেশের স্বীকৃতি হার মাত্র ৪৩% । সুতরাং বলা যায় এখনও দেশের অধিকাংশ লোক শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। শিক্ষাদিক্ষাহীন মানুষের জীবন অভিশাপগ্রস্থ। তাদের জীবনে একদিকে যেমন তাকে আদর্শ ও সৎ ধ্যান ধারনার অভাব, অন্যদিকে বাস্তব জীবনেও অজ্ঞানতার বন্ধুরপথে প্রতি পদে ঠোক্কর খেতে হয়। দৈহিক শ্রম ও ইচ্ছা শক্তি থাকা সত্ত্বেও নিরক্ষরতার কারণে বিভিন্ন প্রকার উন্নত পেশা গ্রহণ করতে তারা ব্যর্থ হয়। ফলে দেশে বেকার সমস্যা দিন দিনই বাড়ছে। শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত উপেক্ষিত ও অবহেলিত এজন্য গোষ্ঠীর দেশের জন্য বাধা হয়ে উঠছে। তাছাড়া দেশের মোট জনসংখ্যার ৪০ ভাগ হচ্ছে শিশু। শিশুরা বিদ্যালয়ের না গিয়ে যদি নিরর্করতার অন্ধকারে ডুবে থাকে তবে এদেশ ক্রমেই ভয়াবহ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। এজন্য ২০০০ সালের মধ্যে সবার জন্য শিক্ষা অর্জনে পহেলা জানুয়ারি ১৯৯২ সালে বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা চালু করা হয়। 

বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার অন্তরায়

বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা
বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র। দেশের হাজার হাজার শিশু চরম দরিদ্রের মাঝে বেড়ে উঠে। অনেক সময় পেটের ক্ষুধা নিবারণের জন্য তাদের রুঢ় বাস্তবতার সম্মুখীন হতে হয়। বইয়ের বদলে হাতে তুলে নিতে হয় হাতুড়ি। দেশের প্রায় ৪০% শিশু শুধু দরিদ্রের কারণেই বিদ্যালয়ে যেতে পারেনা। শিক্ষার্থী তুলনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষকের সংখ্যা কম। শিক্ষার প্রতি অশিক্ষিত পিতা মাতার অনীহা ও উদাসীনতা বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রতি বিরাট বাধা।

 বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম ও বাস্তবায়নের গৃহীত ব্যবস্থা

বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা
বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা

বাংলাদেশের মতো একটি দেশের প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা যুক্তিযুক্ত এবং সময়োপযোগী উদ্যোগ। দেশের জনগণ সচেতন ও মনোযোগী হলে এর কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন করা সম্ভব। দেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে প্রসারিত করে তোলার জন্য সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেছেন। এ পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে আমাদের দেশে ও শিক্ষার অন্ধকার নিঃসন্দেহে দূরীভূত হবে। এজন্য সরকার প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে প্রস্তাব বিতরণ করছে।শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে সর্বোচ্চ। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক নতুন শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। নিরক্ষর অভিভাবকদের শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করানোর প্রচার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি, বিদ্যালয় মেরামত ও সংস্কার শ্রেণীকক্ষ নির্মাণ ,ইউনিফর্ম বিতরণ, লেখাপড়া উপকরণ যারা প্রদান, শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য বিতরণ ইত্যাদি কাজের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বস্তরের মানুষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেবার জন্য সরকারি উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে।

এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে যা করণীয় 

বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা
বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা

যাদের জন্য এ শিক্ষার আয়োজন ও উদ্যোগ, তাদেরকে সর্বাগ্রে এর সম্বন্ধে সচেতন ও আগ্রহী করে তুলতে হবে। যারা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত ও উপেক্ষিত তাদের মাঝে সর্বাগ্রে শিক্ষা লাভের আগ্রহ ও আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি কত হবে। তাদের অনুভব করাতে হবে, যে শিক্ষা লাভের মাঝে এক অপার্থিব সুখ আছে নির্মল আনন্দ ও শান্তি। স্বীয়জীবনকে সুন্দর করার প্রয়োজনেই শিক্ষা গ্রহণ অপরিহার্য। আমাদের দেশে বাধ্যতামূলক শিক্ষিকা কার্যক্রমও সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের পথে নানাবিট সমস্যা রয়েছে। দারিদ্র্যের ফলে জনসাধারণের মাধ্যমে ক্ষমতা কম। সরকারি সাহায্য পর্যাপ্ত নয়। দেশের বৃহত্তম স্বার্থে বর্তমান সীমিত সম্পদের সর্বাধিক সদ্ব্যবহার করে এ কার্যক্রম কে সফল করতে হবে। এর জন্য বিদ্যালয়, গৃহ সংস্কার ও সমপ্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সাথে বেসরকারি রেজিস্টার প্রাথমিক বিদ্যালয় করতে হবে এবং দিনে একবার পুষ্টিকর খাবারের সংস্থান অবশ্যই করতে হবে। পল্লীবাসীদের শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। তাই দেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে আসা উচিত।অবশ্য এসব কিছুই নির্ভর করে দেশবাসীর চিন্তা, চেতনা ও অবস্থার সামগ্রিক উন্নয়নের উপর। 

প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয় উন্নয়নের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন হলে দেশের শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে অবশ্যই দেশবাসী ও শিক্ষার অন্ধকার থেকে আলোর প্রতি এগিয়ে যেতে পারবে বলে আশা করা যায়। প্রাথমিক শিক্ষাকে জনপ্রিয় অসাধ্য করে তোলার জন্য সে কার সাথে আনন্দের সংযোগ ঘটাতে হবে। মিডিয়াগুলোকে প্রাথমিক শিক্ষার স্বপক্ষে ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে।মোটকথা সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসতে হবে আমাকে, আপনাকে, আমাদের সকলকে। তবেই এ জাতির ঘাড়ে দীর্ঘদিনের জমে যাওয়া জঞ্জাল দূর হবে। থাকবেনা অর্থনৈতিক অবক্ষয়। সুতরাং এর উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সামাজিক আন্দোলন ও সচেতনতা গড়ে তোলা অপরিহার্য। তাই সর্বাগ্রে জাতির আত্মসামাজিক উন্নতি  নিশ্চিত করে জানাতে হবে। তাহলেই উদ্যোগে আসবে সফলতা। 

Views: 4

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *