বাগযন্ত্র কাকে বলে ও কি কি

বাগযন্ত্র কাকে বলে ও কি কি

বাগযন্ত্র
বাগযন্ত্র

মানুষ তার শরীরের যে সমস্ত প্রতে্যঙ্গের মাধ্যমে ধনী সৃষ্টি করে সে প্রত্যঙ্গগুলোকে বলে বাঘ প্রত্যঙ্গ বাক যন্ত্র। এর যন্ত্র গুলো ফুসফুস থেকে নাক পর্যন্ত বিস্তৃত।  মানুষের শরীরের ফুসফুস, স্বড়যন্ত্র ,মুখবিবর, নাক, জিহবা, তালু, ওষ্ঠ, দাঁত, আলজিব্বা, বাগ-প্রত্যঙ্গ বা বাগযন্ত্র। 

নিম্নে একটি বাগপ্রতঙ্গ বাগযন্ত্রের চিত্র দেওয়া হলঃ

বাগযন্ত্র
বাগযন্ত্র

 

১। ফুসফুসঃ  ফুসফুসই আমাদের মূল  বাগপ্রতঙ্গ। ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাস-প্রশ্বাসের কাজ চলে।  ফুসফুস থেকে বেরিয়ে আসা বাতাস বিভিন্ন বাগ-প্রত্যঙ্গের বাধা প্রাপ্ত হয়ে ধ্বনির সৃষ্টি হয়।

২।  স্বরযন্ত্রঃ গলার স্বামুক ভাগিয়ে যে উঁচু অংশটি দেখা যায় তাকে স্বরযন্ত্র বলে। ইংরেজিতে এটিকে বলে অ্যাডামস অ্যাপল  স্বরযন্ত্রের ভিতরে অবস্থান করে  স্বর তন্ত্রী।

৩।  মুখবিবরঃ গলনালী থেকে ঠোঁট পর্যন্ত মুখের ভিতরের অংশকে বলা হয় মুখ বিবর।মুখবিবরে মধ্যে রয়েছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ।

৪। নাকঃ  নাকের সাহায্যে শ্বাস-প্রশ্বাসের কাজ চলে।  নাকের ভেতরে রয়েছে দুটি ছিদ্রপথ।  এর ছিদ্রপথকে নাসা পথ বলে।  ফুসফুসের বাতাস নাকের পথ দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় যে ধ্বনির সৃষ্টি হয় তাকে না শিক্ষা ধ্বনি বলে।

৫। জিহ্বাঃ জিব্বা বাগযন্ত্রের অন্যতম।  জিহ্বা সক্রিয় না হলে কোন ধ্বনিই সঠিকভাবে উচ্চারণ করা যাবে না। ধ্বনি তৈরির দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জিব্বার তিনটি অংশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।  এই তিনটি অংশ হচ্ছে জিহ্বার আগা, জিহ্বার সম্মুখভাগ এবং জিহ্বার পশ্চাৎ ভাগ।

জিব্বার অগ্রভাগে অপরের পাটি দাঁতের সাথে জীবের ডগা লাগিয়ে যে ধ্বনি পাওয়া যায় সেগুলোকে দন্তধ্বনিযেমন ত, থ, দ, ধ, ন। জিভের ডগা সামান্য উল্টে গিয়ে দাঁতের গোরা স্পর্শ করলে উৎপন্ন হয়-ট, ঠ, ড, ঢ, ণ। জীবের পাতা দন্তমূলকের স্পর্শ করলে তৈরি হয় বাংলা ‘শ’ ধ্বনি। পাশ্চাত জিব্বা কোমল তালুকের স্পর্শ করলে পাওয়া যায় জিম্বামূলীয় বা কোমল তালুজার ধ্বনি। যেমন ক, খ, গ, ঘ, ঙ ইত্যাদি। সুতরাং ধ্বনি তৈরিতে জিব্বার ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

৬। দাঁতঃ  ধ্বনি উচ্চারণের জন্য দাঁতের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।  দাঁত না থাকলে অনেক ধ্বনি সঠিকভাবে উচ্চারণ করা যায় না।  জিব্বার ডগা দাঁত কে স্পর্শ করে উচ্চারিত হয় ত, থ, দ, ধ, ন ইত্যাদি ধ্বনি।

৭। ওষ্ঠ বা ঠোঁটঃ ঠোঁট বন্ধ রেখে ধ্বনি উচ্চারণ করা যায় না।  দুই ঠোঁটের স্পর্শে এবং পরক্ষণে কিছুটা ফাঁক হয়ে বাতাস বেরিয়ে আসে বিধায় ওষ্ঠ ধ্বনি গঠিত হয়। যেমন প, ফ, ব, ভ, ম।

৮।তালুঃ মুখের ভিতরে উপরে পাটি দাঁত থেকে জিব্বার মূল পর্যন্ত ধনুকের মতো বাঁকা অংশকে তালু বলে।  সামনের অংশকে শক্ততালু এবং বিচারের অংশকে কোমল তালু বলা হয়।  তালুর সাথে জিব্বা লেগে উচ্চারিত হয় তালব্য ধ্বনি। যেমন চ, ছ, জ, ঝ, ঞ।

৯। আল জিহ্বাঃ  জিব্বার মূলে এবং কোমল তালুর নিচের অংশে আল জিহ্বার অবস্থান।  আজীবন না থাকলে ধনী উচ্চারণের বৈচিত্র আনা সম্ভব হতো না। 

. ধ্বনি ও বর্ণের পার্থক্যঃ ধ্বনি ও  বর্ণের  পার্থক্য নিম্নে দেওয়া হলঃ

ধ্বনি

বর্ণ

১। মনের ভাব প্রকাশক প্রতিটি শব্দই ধ্বনি।

২। ধ্বনি কন্ঠ ধ্বনির ক্ষুদ্রতম মৌলিক অংশ একক।

৩। ধ্বনি হল বনের উচ্চারিত রূপ।

৪।  প্রত্যেক ভাষার মূল রয়েছে ধ্বনি।

 

১। ধ্বনি প্রকাশক চিহ্নই বর্ণ।

২।  ধ্বনির সাংকেতিক চিহ্ন বর্ণ।

৩। বর্ণ হলো ধ্বনির লিখিত রূপ।

৪। প্রত্যেক ভাষার বর্ণ ভিন্ন ভিন্ন হয়।

 

Views: 13

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *