প্রাকৃতিক ভারসাম্যে বৃক্ষ

প্রাকৃতিক ভারসাম্যে বৃক্ষ

প্রাকৃতিক ভারসাম্যে বৃক্ষ
প্রাকৃতিক ভারসাম্যে বৃক্ষ

পারিপার্শ্বিক অবস্থাকে বলে পরিবেশ।  আমাদের চারপাশে যা কিছু আছে যেমন মাঠঘাট, নদী-নালা, নর্দমা, পুকুর, গাছপালা প্রভৃতি পরিবেশের অপরিহার্য উপাদান।  উপাদান গুলোর পারস্পরিক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে অপরিহার্য বস্তুটি ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছে তা হচ্ছে বৃক্ষ। 

লক্ষ লক্ষ বছর আগে পৃথিবীর বুকে যে প্রাণ ও প্রাণীর সৃষ্টি হয়েছিল, সেদিন প্রকৃত পরিবেশে এক ভারসাম্য ছিল। এই ভারসাম্য বজরে কে প্রকৃতি ও পরিবেশের এক সভ্যতার ক্রম বিবর্তনের পথ ধরে মানুষ একটু একটু করে গড়ে তুলেছে নিজের পরিবেশ। মানুষের উচিত ও পরিবেশ তারই সভ্যতার বিবর্তনের ফসল।  মানুষ তার নতুন নতুন আবিষ্কারের প্রতিভা, পরিশ্রম আর দক্ষতা দিয়ে সংগ্রহ করেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন পদ্ধতি। শতাব্দীর পর শতাব্দী বিজ্ঞানের বিজয় গৌরবে মোহান্দ মানুষ পৃথিবীর পরিবেশ কে করেছে বিষাক্ত। চারিদিকে চুরিয়ে দিচ্ছে ক্ষতি করে সব আবর্জনা।  জনমল হয়েছে বিষময়, পরিবেশ হয়েছে দূষিত। আরে দূষিত পরিবেশ প্রাকৃতিক পরিচয় বিনষ্ট।

প্রাকৃতিক পরিবেশের বর্তমান অবস্থা

 জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও পরিবেশের ভারসাম্যকে নষ্ট করেছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে প্রাকৃতিক সম্পদ জল, মাটি এবং বায়ুর উপর প্রচন্ড চাহিদার চাপ। বন সম্পদ নষ্ট করে তৈরি হচ্ছে ঘরবাড়ি।  এতে প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য এসে পৌঁছে এক সংকরজনক অবস্থায়।

বনায়নের অবস্থা

প্রাকৃতিক ভারসাম্যে বৃক্ষ
প্রাকৃতিক ভারসাম্যে বৃক্ষ

জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বনভূমি কেটে সেখানে তৈরি হচ্ছে বাসগৃহ।  বনেন শুধুমাত্র প্রাকৃতিক সুভা বন্ধনই করে না, মানুষের জীবনের অত্যাবশকীয় মৌলিক চাহিদা মেটানোর উৎস হিসেবে বনয়ন এক বিরাট ভূমিকা পালন করছে। 

প্রাকৃতিক ভারসাম্যে বৃক্ষের ভূমিকা

পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণমুক্ত করার জন্য প্রথম গুরুত্ব দেওয়া হয় বিক্রোফোন সৃষ্টি করাকে।  বনভূমির কল্যাণে আমরা বেঁচে আছি। শ্যামল প্রান্তর বনভূমি দূষিত বাতাসকে সর্বদা শোধন করে চলেছে। বনরাজী বায়ুমন্ডল থেকে দূষিত কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে অক্সিজেন ত্যাগ করে।  গাছপালা অক্সিজেন ত্যাগ করে বায়ুকে নির্মল রাখে বলেই প্রাণীকুল রক্ষা পায়। তাছাড়া বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ভৌগোলিক পরিবেশের ভারসাম্যক জন্য বনয়ন সৃষ্টি করে একান্ত প্রয়োজন। বর্তমানে বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কয়েকটি বনভূমি রয়েছে।  তার মধ্যে সর্ববৃহৎ বনভূমি খুলনার সুন্দরবন। এছাড়া রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমি, মধুপুর ও বাওয়ালের গুড় দিনাজপুর ও রংপুরের বরেন্দ্রভূমি। এদেশের মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ।  এর প্রাকৃতিক সম্পদ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ব্যাপক ভূমিকা পালন করে থাকে। একে রক্ষা করার দায়িত্ব সকলের। আবহাওয়া আদ্র ও নাতিশীতোষ্ণ রাখা, বৃষ্টিপাত ঘটানো ,ভূমিক্ষয় রোধ, করা বানের হাত থেকে দেশকেও দেশবাসীকে রক্ষা করা জড় ও ঘূর্ণিঝড় রোধ করা এবং জমিকে উবার করার পেছনে পার্থক্য ভূমিকায় আবর্তন হয়েছে আমাদের এ মনোনয়ন বা বৃক্ষরাজি। সুতরাং এ সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সমগ্র দেশবাসী।  এছাড়া বিজ্ঞ থেকে আমরা আমাদের দুজনদের জীবনের উপকরণ সংগ্রহ করে থাকি। যেমন কাগজ, রাবার, দিয়াশলায়, গৃহ নির্মাণ ও গৃহে সামগ্রী জ্বালানি তজসপত্র ইত্যাদি দ্বারা দ্রব্য সামগ্রী। 

প্রাকৃতিক ভারসাম্যে বৃক্ষ
প্রাকৃতিক ভারসাম্যে বৃক্ষ

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য লীলা ভূমি ও সৃষ্টি করেছে এ সমস্ত বৃক্ষ।  বাংলার বুক সবুজ শ্যামলী ময় ডেকে দিয়েছে বনায়ন। কাজেই বিক্করাজি দংশন না করে তাকে টিকিয়ে রাখার মাঝেই রয়েছে মানব সমাজের সতর্কতা।  ধ্বংস নয়, সৃষ্টিকে মনোবৃত্তি নিয়ে প্রতিটি মানুষের অগ্রসর হতে হবে বনান সৃষ্টির ক্ষেত্রে। বৃক্ষরোপণ অভিযানে প্রতি সরকারিভাবে নজর দেওয়া একান্ত প্রয়োজন।  ছাড়া গাছ ভালো ব্রিজ অনেকের পক্ষে সংগ্রহ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই সরকারি উদ্যোগ নিয়ে গরীব চাষীদের মাঝে যারা বীজ বিতরণ করে এবং তাদের উৎসাহ দিয়ে বৃক্ষরোপণ করার অভিমুখে নিয়ে যেতে হবে। প্রত্যেকেরই বাড়িতে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন ফলের ছাড়া রোপন করতে হবে।  যেমন আম পেঁপে নারিকেল ইত্যাদি। আমাদের দেশে প্রাকৃতিক জ্বালানি শক্তির অভাবে ও বিভিন্ন কারণে গাছ কেটে ফেলা হয়।  কিন্তু তারপরও ভর্তি অন্য গাছ লাগানো হচ্ছে না।  ফলে দিন দিন বনভূমির উজার হয়ে যাচ্ছে।

প্রাকৃতিক ভারসাম্যতার একমাত্র অবলম্বন বৃক্ষ।  প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতার মাত্রা ভয়াবহভাবে বেড়ে যাচ্ছে। এর থেকে রক্ষা করতে হলে আমাদের অবশ্যই অধিক হারে বৃক্ষ লাগাতে হবে।  বৃক্ষ ছাড়া জীবন অচল, রবীন্দ্রনাথ এ উপলব্ধি করেছিলেন বলেই তাকে বলতে শোনা যায়-

“হে নব সভ্যতা হে নিষ্ঠুর সর্বগ্রাসী 

দাও ফিরে তপোবন পূর্ণ ছায়া রাশি।

প্রকৃতির কাছে জীবনের দাবী 

 গাছ লাগাও প্রাণ বাঁচাও।’’

Views: 13

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *