পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

আমাদের চারপাশে যা কিছু আছে তাই আমাদের। পরিবেশ প্রাণী ও পরিবেশের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। পরিবেশে প্রাণের ধারক ও জীবনী শক্তির যোগানদার ভালো পরিবেশ সুস্থ ও সুস্থ জীবন গড়ে তোলে। পৃথিবীতে জীবের অস্তিত্বের জন্য প্রথম ও প্রধান উপাদান হচ্ছে নির্মল ও দূষণমুক্ত পরিবেশ। কিন্তু মানুষ কখনো সচেতনভাবে আবার কখনো অবচেতনে পরিবেশের দূষিত করে। বর্তমান যান্ত্রিক সভ্যতা পরিবেশ কে দূষিত করেছে নানাভাবে। অর্থাৎ বিজ্ঞানের বিকাশে ফলে আমাদের পরিবেশ প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। বিজ্ঞানের অমিত শক্তি দুই ধারায় প্রবাহিত। একদিকে সৃজন এবং অন্যদিকে ধ্বংস পরিবেশ। পতিকূল হলে তার ধ্বংস ও সর্বনাশ অসম্ভাবী। বিজ্ঞানের অগ্রগতি ও জয়যাত্রা এবং সভ্যতার ক্রমবিকাশ মানব কল্যাণের পাশাপাশি নানাভাবে আমাদের পরিবেশকেও বিষময় ও দূষিত করে তুলছে। বলতে গেলে সারা পৃথিবীর পরিবেশ আজ দূষিত হতে চলছে। বর্তমানে পরিবেশ দূষণ মানব সভ্যতার জন্য এক চরম অভিশাপ।

 পরিবেশ দূষণের কারণ

পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

পরিবেশ দূষণ অন্যতম কারণ জনসংখ্যার বিস্ফোরণ। অপরিকল্পিতভাবে জনসংখ্যার বৃদ্ধি পেলে বাসস্থান, খাদ্য বস্ত্র ও শিক্ষা এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে যেমন সংকট দেখা দেয় তেমনি এর অপপ্রভাত পরে পরিবেশের উপর। মানুষ প্রত্যেহিক জীবনে প্রয়োজন মেটানোর জন্য প্রতিনিয়ত সবুজ গাছপালা, লতাপাতা, তৃণ্য, ঘাস ইত্যাদি ধ্বংস করছে জ্বালানোর জন্য নষ্ট করছে। গাছপালা আবার বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য মানুষ নষ্ট করছে। সম্পদ ফলে একটি দেশের জন্য যে পরিমাণ বনভূমির প্রয়োজন তা কমে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইড এর পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে প্রাণীকুলের স্বাভাবিক শ্বাস প্রশ্বাস হচ্ছে বিপন্ন। আক্রান্ত হয়েছে নানা প্রকার জটিল কঠিন রোগে। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ঔষধ জমিতে ব্যাপক মাত্রায় প্রয়োগ করায় জীব ও প্রাণী জগতে পরিবেশের ভারসাম নষ্ট হচ্ছে।  রাসায়নিকভাবে ব্যবহারের ফলেও দূষিত হচ্ছে ।পরিবেশ সিসা, পারদ, সালফার ডাই অক্সাইড, কার্বন ডাই অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড প্রবৃত্তির প্রতিনিয়ত বাহিত করছে। দূষিত বিভিন্ন বিষাক্ত হাইড্রোকার্বন কার্বন ডাই অক্সাইড, কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা শহরের ড্রেন ও নালা নদমা দিয়ে বয়ে আস দূষিত বজ্র ময়লা ও পানির নদ নদীতে গিয়ে পতিত হচ্ছে। এছাড়া নানা প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে পানিতে দ্রবীভূত হয়েও প্রাণী দূষিত হচ্ছে। কল কাটানোর বিকট শব্দ, মোটরযানের হর্ন, পটকার শব্দ, রেডিও টেলিভিশন শব্দ মানুষের কোলাহল চিৎকার, হৈফুল্ল, সাউন্ড মাইক বাজানো, মিছিল ও স্লোগানের শব্দ, সবমিলিয়ে যেন শব্দের এক মহাযজ্ঞ চলছে। এসবের ফলে পরিবেশ শব্দ দ্বারা দূষণ হচ্ছে এবং মানুষ ও সকল প্রাণীকুলে জীবন হচ্ছে হুমকির সম্মুখীন। তাছাড়াও যুদ্ধ ও সংঘর্ষ পারমানবিক ও আণবিক বোমার তেজস্ক্রিয়তা গ্রীন হাউজ ইফেক্ট প্রভৃতির কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে মারাত্মকভাবে। 

পরিবেশ দূষণের প্রতিকার

পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

মানুষও প্রাণীকুলের জন্য পরিবেশ দূষণ খুবই মারাত্মক। সুস্থ সুন্দর জীবন যাপনের লক্ষ্যে পরিবেশকে দূষণমুক্ত করার জন্য সবুজ গাছপালা নিধন বন্ধ করতে হবে।তাছড়া বৃক্ষ রোপন করে ধরণীকে সবুজ শ্যামল রূপে গড়তে হবে। ইটের ভাটায় কাঠ পোড়ানো নিষিদ্ধ করতে হবে, বাতিল করতে হবে পারমাণবিক পরীক্ষা, মহাকাশ অভিযান, রকেট নিক্ষেপ, যুদ্ধ বিগ্রহ ইত্যাদি যথাসম্ভব বর্জন করতে হবে। রেফ্রিজারেটর, মশার স্প্রে, বডি স্প্রে ইত্যাদি যতটা সম্ভব বর্জন করা উচিত। তাছাড়া বিভিন্ন প্রচার যন্ত্রের মাধ্যমে পরিবেশ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা আবশ্যক। সেহেতু প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সকল স্তরের পরিবেশ শিক্ষা কর্মসূচির কথা ও বিবেচনা করা যায়।

দূষণ প্রতিরোধকল্পে গৃহীত পদক্ষেপ

পরিবেশ দূষণ রোধকল্পে মানুষ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ কে ইন্টারন্যাশনাল ড্রিংকিং ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন দশক হিসেবে পালন করা হয়। তাছাড়া পরিবেশ দূষণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। বায়ু দূষণের প্রতিকারের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। কলকারখানার দহন প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে নির্গত দূষকের পরিমাণ কমানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাছাড়া প্রযুক্তি বিদ্যার সাম্প্রতিক অগ্রগতিতে এমন কতগুলো পদ্ধতির উদযাপন হয়েছে, যার দ্বারা পারমাণবিক চুল্লির আবর্জনা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়েছে। এরপরে নিউক্লিয় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিবেশে কোন তেজস্ক্রিয়তা থাকবে না। পরিবেশ সম্পর্কে জনমনে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রেডিও টেলিভিশনে নানা প্রকার প্রচার কার্যক্রম ও পরিচালিত হচ্ছে আশা করা যায়। পরিবেশ দূষণ ও তার রোধ সম্পর্কে জ্ঞাত ও সজাগ থাকলে পরিবেশ দূষণ বহু অংশে রাস পাবে। পরিবেশ সম্পর্কে পৃথিবীর প্রায় সব কটি দেশেই ভাবনা চিন্তায় আছে। ১৯৭২ সালে সুইডেনের রাজধানী স্টক হোমে মানুষের পরিবেশ শীর্ষক এক অধিবেশন  হয়েছে। রাশিয়া, জার্মানি, আমেরিকা, ফ্রান্স, ব্রিটেন, জাপা,ন সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড প্রভৃতি দেশি জাতীয় স্তরে গঠিত হয়েছে। পরিবেশ দূষণ সংস্থা সবকিছু মিলে মানুষ আজ পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন।

পরিবেশ দূষণ মানবজাতির জন্য এক মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। এ ব্যাপারে সারা বিশ্বের মানুষ সচেতনতার দরকার। আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশে সমস্যা আরো প্রকট। তবে জাতির স্বার্থে তার মোকাবেলার প্রয়োজন।

Views: 3

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *