নিরক্ষরতা দূরীকরণ

নিরক্ষরতা দূরীকরণ

নিরক্ষরতা দূরীকরণ
নিরক্ষরতা দূরীকরণ

কবি বলেছেন

 ‘’চক্ষু থাকিতে অন্ধ যাহারা আলোকের দুনিয়ায়

 সিন্দু সেচিয়া বিষ পায় তারা অমৃত নাহি পায়।’’

নিরক্ষরতা মানব জীবনের সবচেয়ে বড় অভিশাপ। শিক্ষাবিহীন মানুষ পশুর সমতুল্য। তাই কবি বলেছেন বিদ্রহীন মানুষ হয় পশুর সমান ও শিক্ষার আঁধার ব্যক্তি জীবনকে আচ্ছন্ন করে রাখে জীবনের বিকশিত পথকে রুদ্ধ করে দেয়। ফলে ব্যক্তি জীবনের পঙ্গুত্ব জাতীয় জীবনে এগিয়ে চলার পথ বন্ধ করে দেয়। সমৃদ্ধ জীবনের সোনালী ঊষা থেকে জাতিতে থাকে বঞ্চিত দরিদ্রতার দুর্বিষহ বোঝা তখন অমানবিক অবস্থার সৃষ্টি করে। আল্লাহতালা মানুষকে সৃষ্টি করেই সর্বাগ্রে জ্ঞান দান করেন এবং শিক্ষার গুরুত্ব প্রতিপন্ন করতেই তিনি হযরত মুহাম্মদ ইসলামের উপর কোরআনের নাযিল করেন ‘’পড়ো’’। মহানবী সাঃ বলেছেন’’ শিক্ষার লাভের জন্য শুধু চীন দেশের জাতীয় হইলেও যাও। ‘’তিনি আরো বলেছেন ‘’শহীদের রক্তের চেয়ে বিদ্বানের কলমের কালী মূল্য ও ,মর্যাদা গুণ বেশি।’’

দেশের অবস্থা

নিরক্ষরতা দূরীকরণ
নিরক্ষরতা দূরীকরণ

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সমৃদ্ধির পেছনে আছে শিক্ষার অবদান। কিন্তু তৃতীয় বিশ্বের মানুষের জন্য দারিদ্র্যের অভিশাপ এসেছে ব্যাপক। নিরক্ষরতার কারণে বাংলাদেশের তার প্রভাব ভয়াবহ ও পরিণতি আশঙ্কা জনক। দেশের প্রায় ১৬কোটি মানুষের ৪ ভাগের এক ভাগ মাত্র তথাকথিত শিক্ষিত। অর্থাৎ অক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন যারা কায়ক্লেশে নামমাত্র শিক্ষা শিক্ষা পেয়েছে। ফলে যথার্থ শিক্ষিত লোকের সংখ্যা অনেকাংশে কমে এসেছে বাকি আশি পার্সেন্ট লোক শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত থেকে শুধু যে নিজের অপরিবারের জীবনকেই বেদনা কাতর করে তুলেছে তা নয় .জাতির জন্য বয়ে এনেছে ভয়াবহ অভিশাপ। নিরক্ষরতার জন্যই আজ বাংলাদেশের অর্থনীতি অনগ্রসর। নিরক্ষরতার জন্য জীবনের অসাধন থেকে বাংলাদেশিরা বঞ্চিত। জ্ঞানই যে শক্তি এ কথা আজ আধুনিক বিশ্বে প্রমাণের অপেক্ষায় রাখে না। অথচ আধুনিক প্রাশ্চাত্য সভ্যতার সান্নিধ্যে এসেও এ দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি বরং শোষণের চাপে পড়ে।  জীবনে নেমে এসেছে গভীর অন্ধকার। যুগে যুগে শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বরাবর অনুভূত হলেও যথার্থ উদ্যোগের অভাবে এ ভয়াবহ অভিশাপ থেকে  রেহাই পাওয়া যায়নি।

নিরক্ষরতা দূরীকরণের প্রয়োজনীয়তা

নিরক্ষরতা দূরীকরণ
নিরক্ষরতা দূরীকরণ

নিরক্ষরতা বলতে আমরা শুধু আকরিক জ্ঞানের অভাব ও প্রাথমিক শিক্ষার অভাব কি বুঝে থাকি। আমাদের দেশে এর শতকরা 80 জন লোক নিরক্ষর। ফলে আমাদের দেশে অভাব, দারিদ্র, স্বাস্থ্যহীনতা, রাজনৈতিক ও সচেতনতা প্রভৃতি জাতিকে আসন্ন করে রেখেছে। আমাদের দেশের অনগ্রসর মূলে যে কতগুলো সমস্যা রয়েছে, তার মধ্যে নিরক্ষরতা একটি প্রধান সমস্যা। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, তাদের উন্নয়নের মূলে রয়েছে সেখানকার দক্ষ জনশক্তি এবং তাদের উন্নত শিক্ষার। সুতরাং গণতান্ত্রিক সুখী ও সমৃদ্ধিশালী একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থা স্থাপন সম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে একটি শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক সৃষ্টি এবং একটি সুসংগুপ্ত এবং সুশীল সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য নিরক্ষরতা দূর করতে হবে।

নিরক্ষরতা দূরীকরণের প্রচেষ্টা

আমাদের দেশের নিরক্ষরতা দূর করার জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতার রঙ্গিন সূর্য আমাদের জাতীয় জীবনে যে নব চেতনার সৃষ্টি করেছে। তার প্রভাব দেখতে হলেও আমাদের আত্মসচেতন হতে হবে। চেতনার দীপ্ত শিক্ষায় উজ্জীবিত হয়ে জাতিকে নিয়োগ করতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার বলিষ্ঠ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নানা অসুবিধা থাকা সত্ত্বেও দেশকে অনুরোধ করার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার জন্য। সরকার অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশে প্রাথমিক শিক্ষা অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গণশিক্ষা কর্মসূচি বাস্তব আইনের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। মাধ্যমিক পর্যায়ে অবৈতনিক নারী শিক্ষা ও উপবৃত্তি প্রথা চালু করা হয়েছে। দেশকে নিরক্ষরতার হাত থেকে মুক্ত করার জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা শুরু হয়েছে। সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম কর্মসূচি শিক্ষায় আগ্রহ সৃষ্টির জন্য শিক্ষার বিনিময়ে কার্যকর্মসূচি চালু করা হয়েছে। সাক্ষরতা কার্যক্রম ও বাস্তবায়নের লোককে বেসরকারি সংস্থা বা এনজিও গুলো বিরামহীন ভাবে কাজ করে যাচ্ছে আশা করা যায়। বাংলাদেশ অচিরেই নিয়োগকর মুক্ত হবে।

নিরক্ষরতা দূরীকরণের উপায়

নিরক্ষরতা দূরীকরণ
নিরক্ষরতা দূরীকরণ

নিরক্ষরতা দূরীকরণের প্রচেষ্টা এখন পর্যন্ত সরকারি পর্যায়ে রয়েছে কিন্তু সরকারি এ প্রচেষ্টার কার্যকরী হবে না। যতদিন না এ ব্যাপারে গণসচেতনতা সৃষ্টি না হয়। বিশেষ করে শিক্ষিত লোকদের অবশ্যই দায়িত্ব সচেতন হতে হবে। দেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর স্থানীয় উদ্যোগে বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। শিক্ষা দানের জন্য স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা যেতে পারে। নিরক্ষরতা দূরীকরণের প্রয়োজনে গ্রামে গ্রামে শহরে সরে বক্তৃতা, বিতর্ক, চলচ্চিত্র প্রদর্শন এবং ভ্রাম্যমান পাঠাগারের ব্যবস্থা করা যায়। এছাড়া গ্রাম ও শহরে আনাচে-কানাচে প্রচার পত্র এবং দেয়াল পত্র লাগিয়ে শিক্ষার প্রতি জনসাধারণের আগ্রহ বাড়ানো সম্ভব। বেসরকারি উদ্যোগে ছাত্র ও শিক্ষকগণ নিরক্ষরতা দূরীকরণে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে পারে। বিদ্যালয় মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ ছুটির সময় ছাত্ররা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে জনসাধারণকে শিক্ষাদানের সাহায্য করলে সাধারণ লোকের মধ্যে শিক্ষার আলো তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পড়বে। স্বল্প সময়ে শিক্ষার ব্যাপক প্রসার সাধন করা হয়েছে।

মনে রাখতে হবে যে, নিরক্ষরতার জন্য আমাদের জীবন নানা রকম সমস্যা জর্জরিত। স্বাধীন দেশের মজাদার পূর্ণ জাতি হিসেবে নিজেদের গৌরব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাইকে আন্তরিকভাবে সচেতন হতে হবে, যাতে দেশ থেকে নিরক্ষরতার অভিশাপ অচিরেই দূর হয়ে যায়। আমরা প্রতিবছর অতি আনন্দের সঙ্গে জাতিসংঘের সাংস্কৃতিক বিভাগের নির্দেশে ৮ ই সেপ্টেম্বর সারা দেশে আন্তর্জাতিক ‘’সাক্ষরতা দিবস’’ পালন করি কিন্তু আমাদের সাক্ষরতা দিবস পালন তখন আমরা দেশের সমৃদ্ধি কামনায় ও নিরক্ষরতা দূরীকরণকল্পে কবির কণ্ঠের সাথে বলতে পারব-

“স্বদেশ আমার, জননী আমার, স্বর্গ আমার, আমার দেশ

 আমরা গুছাবো মা তার দৈন্য, মানুষ আমরা নাহিত মেষ।”

 

Views: 4

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *