নিয়মানুবর্তিতার প্রয়োজনীয়তা

নিয়মানুবর্তিতার প্রয়োজনীয়তা

নিয়মানুবর্তিতা
নিয়মানুবর্তিতা

এ বিশ্বের সর্বত্রই নিয়মে রাজত্ব। উর্ধ্বে নীল আকাশ, নিম্নেসাগর পৃথিবী। সর্বত্রই নিয়মের অবাধ গতি। আকাশে সূর্য, চন্দ্র, গ্রহ, নক্ষত্র আমাদেরই পৃথিবী সবকিছু একটি নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে আবর্তন করছে। কোথাও এর সামান্যতম বিচ্যুতি ঘটতে পারে না।  সূর্যকে কেন্দ্র করে  গ্রহন্ডলীর যুগ যুগান্তর ধরে সুনির্দিষ্ট কক্ষপথে ছুটে চলছে। নদনদী, গাছপালা, পশুপাখি, মানব মানবের জীবনেও নিয়মের লীলা চলছে বস্তুত এ নিয়মের মধ্যেই রয়েছে সৌন্দর্যের প্রকাশ।

গুরুত্ব

নিয়মানুবর্তিতা
নিয়মানুবর্তিতা

 মানুষের জীবনে শৃঙ্খলাবোধ জেগে ছিল আদিকাল থেকেই। পৃথিবীর কোন বড় কাজেই শৃঙ্খলা বা নিয়ম বন্ধন ছাড়া সফল হয়নি। রাষ্ট্র পরিচালনা, নগরনির্মাণ, বিজ্ঞান সাধনা, জ্ঞান ও ধর্ম সাধনা এক কথায় নির্মানুবর্তিতা বা শৃঙ্খলা ছাড়া কোন কিছুই হতে পারে না। মানুষ তাই নিজের নিজের নিয়ম সৃষ্টি করেছে। ব্যক্তি সমস্ত তারা রাষ্ট্রীয় জীবনে শৃঙ্খলার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

সভ্যতা মানুষের সৃষ্টি। সভ্যতা আগমনের পক্ষে শৃঙ্খলা বোধ বা নিয়মানুবর্তিতা অপরিহার্য। মানুষ তাই আপন নিয়মের সৃষ্টি করে সভ্যতাকে গড়ে তুলেছে কিন্তু প্রায় প্রকৃতির নিয়মকে মানুষ কখনোই লংঘন করতে পারেনি। সে আপন নিয়ম ও শৃঙ্খলা বজায় রেখেই চলছে। 

যেমনুবর্তিতা বঙ্গ মানেই বিপর্যয় ও ধ্বংস

নিয়মানুবর্তিতা
নিয়মানুবর্তিতা

নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলাই এইবিশ্বের বিধান। কি ব্যক্তি জীবনে, কি সমাজ জীবনে, কি জাতীয় জীবনে কোথাও এর ব্যতিক্রম সম্ভব নয়। ব্যতিক্রম ঘটলে বিপর্যয় অবসম্ভাবী। শুধু প্রকৃতিতেই সত্য নহে, মানব জীবনেও সত্য। এজন্যই ব্যক্তির কল্যাণে এবং জাতির কল্যাণে দেশের নিয়মানুবর্তী হওয়া উচিত। নিয়ম শৃঙ্খলে ভঙ্গের ফল যে কিরূপ বিষময় হতে পারে তার অজস্র উদাহরণ ইতিহাসের পাতা হতে উদ্ধার করা যায়। আমাদের প্রত্যেক জীবনেও নিয়ম শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিশাপ প্রতিনিয়তই প্রত্যক্ষ করি। আমাদের আধুনিক জীবনের অনেক সমস্যাযই এ নিয়ম নীতির প্রতি অবহেলার ফল। 

নিয়ম অনুবর্তিতার তাৎপর্য

নিয়মানুবর্তিতা
নিয়মানুবর্তিতা

অনেকের মতে নিয়মানুবর্তিতা ব্যক্তির স্বাধীনতাকে খর্ব করে। তাই তারা কোনরূপ নিয়ম-শৃঙ্খলার বাঁধনকে পছন্দ করে না। এর প্রেক্ষিতে বলা যায় বিশৃঙ্খল জীবন মানুষের সর্বনাশ ডেকে আনে। এ মহা সত্য উপলব্ধি করেই তো মানুষ আইন ও নিয়ম কানুন তৈরি করে সমাজ ও মানুষের সুষ্ঠু জীবন বিকাশের পথ প্রশস্ত করেছে। নিয়মানুবর্তিতা জীবনের উন্নতির জন্য একান্ত প্রয়োজন। ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব ও প্রতিভার বিকাশে এর চেয়ে বড় সহায়ক আর নেই। জীবনের আচরণে নিয়মানুবর্তিতার অভাবে অনেক প্রতিভাশালী মানুষের জীবনে ও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় ।

ছাত্র জীবনে ও জাতীয় জীবনে নিয়ম অনুবর্তিতা

নিয়মানুবর্তিতা
নিয়মানুবর্তিতা

জীবনের সর্বস্তরেই নিয়মানুবর্তিতার প্রয়োজন। কি বিদ্যালয়ে, কি খেলার মাঠে, কি কারখানায়, কি যুদ্ধক্ষেত্রে সর্বত্র নিয়মনীতি তার অপরিসীম উপকারিতা আছে। শ্রেষ্ঠ ছাত্র, শ্রেষ্ঠ খেলোয়ার, শ্রেষ্ঠ সৈনিক, হতে হলে নিয়মানবির্তি হতে হয়।  বিদ্যালয়ের ছাত্রকে বিদ্যালয়ের নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলতে হয়, ক্লাসের শিক্ষকের উপদেশ গ্রহণ করতে হয় এবং নিয়মিত পড়াশোনা করতে হয়। তানাহলে ছাত্র জীবনের বৃহৎ উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যায়। খেলোয়াড়ের পক্ষে এ কথা সমভাবে প্রযোজ্য।

নিয়মানুবর্তিতার প্রয়োজন বোধ হয় সেনাবাহিনীতেও সর্বাধিক। কারণ সৈনিকের স্কন্ধে দেশ রক্ষার মহান দায়িত্ব অর্পিত। তার সমানতম অবহেলা শুধু তার ব্যক্তির জীবনেই নহে, তার দেশ বা জাতির সর্বনাশের কারণ হতে পারে। সৈনিক জীবনে নিয়ম ভঙ্গ শুধু যুদ্ধে পরাজয়ের গ্লানি আনে না, দেশেমহা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। 

জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিয়ম অনুবর্তিতার প্রয়োজন আছে। রাস্তাঘাটে, অফিসে, কারখানায়, খনিতে, হাটে বাজারে, গাড়িতে, স্টিমারে, মানুষ নানা কাজে ছুটি করছে। সর্বত্রই তার প্রয়োজন নতুবা বিশৃঙ্খলা অনিবার্য। কারণ সামান্য নিয়মানুবর্তিতা ভঙ্গের ফলে মহা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। জীবনের কাজকর্মে সর্বত্র নিয়মানুবর্তী হতে হবে নতুবা স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হতে পারে। জীবনযাত্রার সুবিধার জন্যই আমাদিগকে নিয়মানুবর্তী হতে হয়। সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত মানুষকে নানা কর্তব্য পালন করতে হয়। এর মধ্যে অভিসের কাজ বা বিদ্যালয়ের পাঠ যেমন প্রয়োজন, আবার সময় মতো গোসল, আহার, বিশ্রাম, খেলাধুলা, নিদ্রাও দরকার। এর কোনটাই বাদ দিলে চলে না। এসব কাজ একই সময়ে করা সম্ভব নয়। তাই সুনির্দিষ্ট রীতিতে প্রত্যহ ই কাজগুলো ভালোভাবে করতে হয়। এ জন্য নিয়ম অনুভূতি তার একান্ত প্রয়োজন। পারিবারিক জীবনেও এর ব্যতিক্রম হতে পারে না।

নিয়ম অনুবর্তিতা পাশ্চাত্য জাতিসমূহের একটি মহৎ চারিত্রিক গুণ। সেজন্য সব দিক দিয়ে তারা সমৃদ্ধ। শক্তিতে, মানে, জ্ঞানে, তারা শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। আমাদের জাতীয় চরিত্র নিয়মানুবর্তিতার অভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই জাতীয় উন্নতির আকাঙ্ক্ষা থাকলে আমাদের প্রত্যেকেরই নিয়ম অনুভূতি হওয়ার শিক্ষা লাভ করতে হবে। শৃঙ্খলাবোধ একটি বড় মানবিক গুণ। মনের ভালো বৃদ্ত্তিগুলোর একটি বিশেষ নিয়মে চর্চা না করলে তা বিকশিত হতে পারে না। তাই মানুষকে বাল্যকাল থেকেই শৃঙ্খলা মেনে চলার অভ্যাস করা বাজনীয়। ছাত্র জীবনেও শৃঙ্খলার বজায় রেখে কাজকর্ম করার অভ্যাস গড়ে তোলা একান্ত দরকার। দায়িত্ব ও কর্তব্যকর্মে অবহেলা না করে জীবনের সর্বক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বোধ আনয়ন করা অপরিহার্য।  শৃঙ্খলা, নিয়মমাফিক চলা ,জীবনের উন্নতির চূড়ান্ত শিকড়ে পৌঁছতে সাহায্য করে। তাই প্রতিটি ব্যক্তির শৃঙ্খলা মেনে চলা উচিত ।

আত্মনির্ভরশীলতা

Views: 4

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *