রঙিন টেলিভিশন কে আবিস্কার করেন

রঙিন টেলিভিশন কে আবিস্কার করেন

টেলিভিশন
টেলিভিশন

বিংশ শতাব্দীর মানুষের জন্য বেয়ার্ডের এক চমৎকার উপর হলো টেলিভিশন।  এই টেলিভিশন বিনোদন ও শিক্ষার ক্ষেত্রে এনে দিয়েছে নতুন দিগন্ত।  পৃথিবীর কোথায় কি ঘটছে তা আজ গড়ে বসেই দেখা সম্ভব।  এক কথায় গোটা পৃথিবীটাই যেন টেলিভিশনের সুবাদে আজ ছোট্ট ড্রয়িং রুমের ভেতরে।

 টেলিভিশনের আবিষ্কার

টেলিভিশন
টেলিভিশন

ল্যাটির টেলি ও ভিসিও শব্দ দুটির টেলিভিশন শব্দ গঠিত যার অর্থ যথাক্রমে দূরত্ব এবং দেখা।  টেলিভিশনের সাহায্যে একই সাথে দূরের দৃশ্য দেখা ও কথা শোনা সম্ভব।

জার্মানি বিজ্ঞানী পল নেককো সর্বপ্রথম টেলিভিশনের মত কোন যন্ত্রের আবিষ্কারের সম্ভাব্যতার কথা চিন্তা করেন। তার মতে একটি ছবিতে আলু ও ছায়াকে অসংখ্যা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে ভাগ করা সম্ভব।  এ অভিমতের উপর ভিত্তি করে পরীক্ষা নিরীক্ষা চলতে থাকে।  এভাবে গবেষণা চলতে থাকে ১৯২৫ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী জন লোগী রেওয়ার্ড এর বাস্তব রূপ দেন। এতঃপর ধাপে ধাপে ১৯৪৫ সালে টেলিভিশনের পূর্ণতা আসে।  বর্তমানে টেলিভিশন এসেছে আরও কয়েকটি দফা উন্নয়ন। বাংলাদেশ টেলিভিশন চালু হয় প্রায় তিন যুগ আগে। প্রথম দিকে এর 85 মা শুধুমাত্র ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি উপকেন্দ্র স্থাপন করে গোটা দেশকেই টেলিভিশনের প্রচারের আওতায় আনা হয়েছে।

 টেলিভিশনের ব্যবহার

টেলিভিশন
টেলিভিশন

দিন দিন বিদ্যুতায়িত হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম।  শহরের প্রসাদের বেষ্টনী পেরিয়ে টেলিভিশন আজ পৌঁছে গেছে গ্রামের সেই ছোট্ট কুঠিরে। তাই টেলিভিশন সৃষ্টি করেছে ব্যক্তিগত জাতীয় উন্নয়নের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার বিপুল সম্ভাবনা। সামগ্রিক উন্নয়নে টেলিভিশনের অবদান অত্যন্ত ব্যাপক।  টেলিভিশনের মাধ্যমে সরকার, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, শিক্ষা, ব্যবস্থা, কৃষি ব্যবস্থা, গণশিক্ষা, পরিবার পরিকল্পনা ,স্বাস্থ্য সচেতনতা ইত্যাদি ব্যাপারে জনগণকে সচেতন ও অবহিত করতে পারে। জনগনু এর অগ্রাহত কোন সমস্যার সমাধান সম্পর্কে সচেষ্ট হতে পারে।  এছাড়া সাহিত্য ও সংস্কৃতি ও বিনোদনের ক্ষেত্রেও টেলিভিশনের রয়েছে বিরাট অবদান। গান, নাটক, কথিকা, খবর, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ও বিতর্কের নেয়া গঠনমূলক অনুষ্ঠান টেলিভিশনের প্রচলিত হচ্ছে অহরহ। ধর্মীয় অনুষ্ঠান, খেলাধুলা, সাক্ষাৎকার, প্রামাণ্য অনুষ্ঠান প্রচার করে টেলিভিশন জনগণের জন্য অতুলনীয় ভূমিকা রাখছে। 

শিক্ষা ক্ষেত্রে টেলিভিশন

টেলিভিশন
টেলিভিশন

শিক্ষা বিস্তারে টেলিভিশনের ভূমিকা অতীত গুরুত্বপূর্ণ। কোন জিনিসের কথা বলার সাথে সাথে যদি তার ছবিও প্রদর্শন করানো যায় তবে সে শিক্ষা অনেক উপভোগ্য ও সহজ হয়।  এ কাজটি কেবল টেলিভিশনেই সম্ভব। এছাড়া টেলিভিশনের সাহায্যে একসাথে অনেক লোককে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া সম্ভব।  জাপান, আমেরিকা, ব্রিটেন প্রভৃতি দেশে শিক্ষা কাজে টেলিভিশন বহু আগে থেকেই ব্যবহৃত হচ্ছে। আমাদের দেশেও গণশিক্ষা ছাড়াও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি কোর্স টেলিভিশনের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া হয়।  যেমন সেলফ,বি.এডনএস,এস,সি ইত্যাদি। এছাড়াও আরো কতগুলো কোর্সকে টেলিভিশনের মাধ্যমে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার চিন্তাভাবনা চলছে।  এক কথায় টেলিভিশন আমাদের শিক্ষা ক্ষেত্রে নতুন বিপ্লবের সূচনা করতে যাচ্ছে।

 টেলিভিশনের উপকারিতা

টেলিভিশন
টেলিভিশন

আধুনিক যুগ বিজ্ঞানের যুগ।  বিজ্ঞানের অবিস্মরণীয় আবিষ্কারের মধ্যে টেলিভিশন অন্যতম। এযুগের প্রতিটি ক্ষেত্রেই টেলিভিশন রয়েছে নিজস্ব অবদান।  জাতীয়, আন্তর্জাতিক সকল ক্ষেত্রেই টেলিভিশনের উপকারিতা অনস্বীকার্য। টেলিভিশন আমাদের দেশে নিরক্ষরতার দূর করার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করছে।  কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠান সম্প্রচারে মাধ্যমে কৃষককুলকে উন্নত মানের কৃষি পদ্ধতির শিক্ষাদান করা হচ্ছে। তাছাড়া টেলিভিশনের সাহায্যে চিকিৎসা বিষয়ক বিভিন্ন তথ্যাদি প্রচার করে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছে।  ইদানিং টেলিভিশনের মাধ্যমে শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান প্রচার করে ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ায় উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি করাতে যথেষ্ট সফলতা অর্জিত হয়েছে। বর্তমানে আমরা ঘরে বসেই টেলিভিশনের পর্দায় সরাসরি দেখতে পাই পবিত্র হজ, মহাকাশ পরিভ্রমন, খেলাধুলা, যুদ্ধবিগ্রহ ,মহামারী ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রভৃতি বিষয়ক খবরা খবর। 

টেলিভিশনের উপকারিতা

টেলিভিশন
টেলিভিশন

 বহুবিধ সুবিধা থাকা সত্ত্বেও টেলিভিশনের উপকারিতা একেবারে যে নেই তা বলা যাবে না। টেলিভিশনে বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচারে বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গির অভাব থাকলে তা জাতির জন্য যথেষ্ট ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে অশালীন নাচ, গান, সিনেমা এবং ধার করা বিদেশি সংস্কৃতি ইত্যাদি টেলিভিশনের প্রচার করা হলে যুবসমাজ ও দেশীয় সংস্কৃতির সর্বনাশ হতে বাধ্য। দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কোন বক্তব্য বা ভুল কোনো তথ্য প্রচারিত হলে জনগণ বিভ্রান্ত হতে পারে।  এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ কোন অনুষ্ঠান ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ার সময় প্রচলিত হলে তাদের পড়াশোনার ব্যাঘাত করতে পারে। অবশ্য উপরোক্ত ত্রুটিগুলো টেলিভিশনের নয় বরং টেলিভিশন যারা প্রচার করেন তাদের ব্যর্থতা। তাই অনুষ্ঠান সম্প্রচারে একটু সচেতন হলেই এগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলো শিক্ষায় এখন অনেক পিছিয়ে।  কেননা অর্থের অভাবে পর্যাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করতে পারছে না, ফারজানা প্রয়োজনীয় সংখ্যক দক্ষ উপযুক্ত শিক্ষক তৈরি করতে।  টেলিভিশন রাখতে পারে বিরাট ভূমিকা। তাছাড়া টেলিভিশনের মাধ্যমে মানুষ অল্প সময় ও অর্থ ব্যয় করে যে বিনোদন পেতে পারে তা অন্য কোনভাবেই সম্ভব নয়। অত টেলিভিশন এর একধারে পরামর্শদাতা শিক্ষক ও বিনোদনের মাধ্যম।  টেলিভিশনের অপরিহার্যতার ব্যাপারে আজও কারো কোন দ্বিমত নেই।  বস্তুত এ যুক্তি টিভি সভ্যতার যুগ। 

 

                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                             

 

Views: 13

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *