কম্পিউটার ও আধুনিক সভ্যতা

কম্পিউটার ও আধুনিক সভ্যতা

কম্পিউটার ও আধুনিক সভ্যতা
কম্পিউটার ও আধুনিক সভ্যতা

আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতা ক্রমবর্ধমান অগ্রসরমান।  যান্ত্রিক সভ্যতার বিকাশের ফলে সৃষ্টি হয়েছে নানা বিস্ময়কর জিনিস। এক বিষয়ের ঘুর কাঁদতে না কাঁদতেই আমাদের সামনে এসে হাজির হয় আরেক বিস্ময়।  বিংশ শতকের শেষ প্রান্তে এসে মানুষ আবিষ্কার করেছে এর অতি আশ্চর্যজনক যন্ত্র কম্পিউটার।  বর্তমান যুগে পৃথিবীর অনেক কিছুই নিয়ন্ত্রণ করছে এই কম্পিউটার যন্ত্রটি।

 কম্পিউটার কি

কম্পিউটার একটি ইংরেজি শব্দ।  এর বাংলা আভিধানিক অর্থ গণক যন্ত্র। ইহা গণিত উপাত্ত বা তথ্য গ্রহণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিলেশন করে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।  কম্পিউটারের কাজের গতি, বিশুদ্ধতা ও নির্ভরশীলতা মানুষের অনুরূপ ক্ষমতার তুলনায় অনেক উন্নত। ফলে মানব জীবনের দৈনন্দিন কার্যক্রম থেকে শুরু করে মহাশূন্যের গবেষণায় পর্যন্ত কম্পিউটারের ব্যবহার এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। জীবন যতই জটিল হচ্ছে, সমস্যা ততই প্রকট হচ্ছে। আবার এসব সমস্যার সহ সমাধান দেবার দায়িত্ব গ্রহণ করছে এ কম্পিউটার যন্ত্রটির। টাইপ রাইটার, লাইন প্রিন্ট, ম্যাগনেটিক, টেপ ট্রানজিস্টার, কার্ড রিডার, কার্ডপাঞ্জিং, সার্কিট প্রভৃতি ঘনমূলক ব্যবস্থাই হচ্ছে কম্পিউটার। 

আবিষ্কারক

কম্পিউটার ও আধুনিক সভ্যতা
কম্পিউটার ও আধুনিক সভ্যতা

 বিরত কয়েকশো বছর ধরে অসংখ্য মানুষের আবিষ্কার ও চিন্তাভাবনার ফসল এ কম্পিউটার। ১৬৪২ সালে বিজ্ঞানী প্যাসকেল সর্বপ্রথম যোগ, বিয়োগ করতে সক্ষম এমন একটি ক্যালকুলেটিং সিস্টেমের তত্ত্ব আবিষ্কার করেন।গুড ফ্রাইড লেবনিজ ১৬৭১ সালে গুণ ও ভাগের ক্ষমতা সম্পন্ন প্রথম যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর তৈরি করেন। ১৮১২ সালে চার্লস ব্যাবেজ প্রথম আধুনিক ক্যালকুলেটরের মূলনীতি পরিকল্পনা করেন। তিনি আধুনিক কম্পিউটারের জনক।  তিনি প্রথম পাঁচটি ভাগে পুরো আধুনিক কম্পিউটারের গঠনতন্ত্র আবিষ্কার করেন।  ভেবেজের কম্পিউটারের গঠনতন্ত্রের পাঁচটি অংশ হলো- ১) স্টোর বা ভান্ডার ২) মিল ৩) কন্ট্রোল৪)  ইনপুট ও ৫) আউটপুট। তার এ তথ্যের উপর নির্ভর করেই পরবর্তীতে এনালিটিক্যাল ইঞ্জিন ও ডিফারেন্স ইঞ্জিন নামে দুটি কম্পিউটার তৈরির চেষ্টা করেন।  আধুনিক ইলেকট্রনিক কম্পিউটারের রোগ তার গঠনে অনুসরণ করা হয়। এজন্য ভেবেছ কি আধুনিক কম্পিউটারের প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়ে থাকে।  আবার কেউ কেউ মনে করেন আধুনিক কম্পিউটার যন্ত্রটির প্রথম উদযাপনের কৃতিত্ব যার প্রাপ্য তিনি হলেন মার্কিন বৈজ্ঞানিক হাওয়ার্ড একিন। খুব মোটা অংক অতি সল্প সময়ে কষ্ট দিতে পারে এমন একটা যন্ত্র তিনি ১৯৩৭ সনে আবিষ্কার করেছিলেন।

 কাঠামো

কম্পিউটারের প্রধান দুটি অংশ হলো কম্পিউটারের যান্ত্রিক সরঞ্জাম বা হার্ডওয়ার সরঞ্জাম এবং প্রোগ্রাম সরঞ্জাম বা সফটওয়্যার। একটি সার্থক কম্পিউটারের পদ্ধতি হলো যান্ত্রিক সারঞ্জাম ও প্রোগ্রাম সারঞ্জামের যৌথ সমন্বয়। কম্পিউটারের যান্ত্রিক সংযমের অংশ হলো তথ্য সংরক্ষণের স্মৃতি, অভ্যন্তরীণ ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়ার জন্য ব্যবহৃত গাণিতিক বা যুক্ত অংশ, নিয়ন্ত্রণ বর্তনী ইত্যাদি। তবে প্রোগ্রামের প্রয়োগ ছাড়া যান্ত্রিক সারঞ্জাম জড় পদার্থ মাত্র।  সুতরাং কম্পিউটারের যান্ত্রিক সারঞ্জাম একটি সুপ্ত কর্মক্ষমতা এবং একই কর্মক্ষমতা কে কাজে লাগানোর জন্য প্রোগ্রাম দরকার।

কম্পিউটারের সাংকেতিক ভাষায় মানুষ তার সমস্যাটি কম্পিউটার কে জানা।  একে বলা হয় প্রোগ্রাম। গ্রহণ যন্ত্রের মাধ্যমে সমস্যা বা প্রেরিত প্রোগ্রাম কম্পিউটারের সংরক্ষণ যন্ত্রের যায়।  কোন যন্ত্রের সাজানো আছে হাজার হাজার শব্দ, সেগুলো তার মেমোরি বা স্মৃতি। একে মেধা বা বুদ্ধিও বলা যায়। এর একটি কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়ার যন্ত্র আছে।  কোন সমস্যার সমাধান চাইলে বোতাম টিপে দিলে নির্গমন যন্ত্র দিয়ে বেরিয়ে আসে ফলাফল এবং সম্মুখ পয়দায় ভেসে ওঠে বা মাইক্রোফোনে শোনা যায়।

 কম্পিউটার ব্যবহার

কম্পিউটার ও আধুনিক সভ্যতা
কম্পিউটার ও আধুনিক সভ্যতা

কম্পিউটারে এখন মানুষের অনেক কাজ করে দিতে পারে। ব্যাংক বীমা কোম্পানি, অফিস আদালতে এখন কম্পিউটারের ব্যবহার দ্রুত কাজ করা যাচ্ছে। নির্ভুল গণনা ও তথ্য সংগ্রহ করে সঠিক হিসাবের ক্ষেত্রে কম্পিউটারের দান ও তুলনীয়।  যেসব কাজ মানুষ করতে পারে না এবং যেসব কাজ সময় ও বেসাপেক্ষ, কম্পিউটারের আবিষ্কারের ফলে, সেসব কাজ অতি দ্রুত বা সহজে সমাধান করা যায়। রাসায়নিক ও পেট্রোলিয়াম শিল্পের জন্য কম্পিউটারের সাহায্য গ্রহণ প্রায় অপরিহার্য।  আণবিক শক্তি উৎপাদন কেন্দ্রে কম্পিউটারের ব্যবহার না করে উপায় নেই। ঘরের নকশা, উড়োজাহাজের নকশা, ডুবু জাহাজ, বড় বড় সাবমেরিন ও বার্জের নকশা কম্পিউটারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত বা পরিচালিত হচ্ছে। পৃথিবীর বড় বড় শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে কম্পিউটারের ভূমিকা ও অগ্রগণ্য। যেকোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার আজ অপরিহার্য। চিকিৎসা ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয়ে ব্যবহার করা হয় কম্পিউটার। উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে শিক্ষা ও বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে কম্পিউটার। সংবাদ প্রকাশনা বা পুস্তক প্রকাশনার মত কাজ অতি সহজে করা যাচ্ছে কম্পিউটারের মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় কৃষি খামারে কম্পিউটারের প্রচলন রয়েছে।  বর্তমানে আমাদের দেশে কম্পিউটারের ব্যবহার প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।  অনুবাদের মত অতি জটিল কাজ সহজে সমাধান করা যায় কম্পিউটারের মাধ্যমে।

 কম্পিউটার ব্যবহারের উপকারিতা

কম্পিউটার ও আধুনিক সভ্যতা
কম্পিউটার ও আধুনিক সভ্যতা

কম্পিউটার মানুষের উপকার করে সত্য কিন্তু কম্পিউটারের অত্যাধু অত্যাধিক ব্যবহারের ফলে বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের বেকার সমস্যা আরও প্রকটস্বরূপ ধারণ করবে এতে কোন সন্দেহ নেই। দেশের শিল্প বাণিজ্য ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার যত বাড়বে কর্মসংস্থানের সুযোগ ততই কমে আসবে। তবে কম্পিউটার শিক্ষা প্রসারের ফলে সৃষ্ট দক্ষ জনশক্তি বিদেশে সরবরাহ করতে পারলে কাজের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

কম্পিউটার বর্তমান বিশ্বের আশীর্বাদ।  আজকাল জীবনে কঠিন ও দুর্বুদ্ধ বিষয়গুলোকে সহজে ও সাবলীল ভঙ্গিতে প্রকাশ করা যায় এর মাধ্যমে। শিল্প বাণিজ্য সংক্রান্ত যেকোনো জরুরী সমস্যার সমাধান দিতে পারে কম্পিউটার। এর প্রয়োগের মাধ্যমে আমাদের খুঁজে বের করতে হবে কর্মসংস্থানের নানা উপায়। 

আমার জীবনের লক্ষ্য

Views: 24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *