ঔষধি গাছ

থানকুনি

 থানকুনি এটিচুডল জাতীয় গাছ। এটি বাংলাদেশের সর্বত্র পাওয়া যায়। এটিএম নীতি প্রাকৃতিক ভাবেই জন্ম। এই গাছের জন্য কোন বিষয়ে যত নিতে হয় না। বাড়ির আশেপাশে দেওয়ালের কাছে বা বড় কোন গাছের নিচে এটি পাওয়া যায়। এই গাছটি একটি বিশেষ ঔষধি গাছ। থানকুনি পাতা স্মৃতিবর্ধক,আয়ু বর্ধক,মেধা বর্ধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।এটি গ্রাম এবং শহর সকল স্থানের মানুষের নিকট একটি পরিচিত উদ্ভিদ। থানকুনি পাতা বিভিন্ন রোগের উপসং হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

শুভ রিত তরকারি দোকানের মধ্যে থানকুনি পাতা পাওয়া যায়। এ পাতার রস অথবা পাতা বিভিন্নভাবে তরকারি রান্না করে খাওয়া যায়। যেভাবে খাওয়া হোক না কেন তানকুনি একটি বিশেষ ঔষধি গাছ। এটি মানুষের বিনোদনের রোগ প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।  ডানকুনি পাতা সাধারণত মানুষের স্মৃতি বৃদ্ধি করে, আয়ু বৃদ্ধি করে, মেধা বৃদ্ধি করে। এই পাতা মানুষের পেটের বিভিন্ন ধরনের অসুখের কাজ করে,আমাশা নিরাময় করে, গলা ব্যাথা দূর করে।

নিম

নিম হচ্ছে একটি ঔষধি গাছ। একমাত্র নিমগাছি যার এমন কোন অঙ্গ নেই যা ওষুধের ব্যবহার করা হয় না।  প্রায় চার হাজার বছর ধরে ভারত মহাদেশের নিম গাছের ব্যবহার হয়ে আসছে। নিমের পাতা সাধারণত চুলকানিতে বেশি ব্যবহার করা হয়। নিমের ডাল দিয়ে ভালো মেসওয়াক তৈরি করা যায়। নিমের পাতা নিয়মিত ব্যবহার করলে রক্ত পরিষ্কার করে বিভিন্ন ধরনের চুলকানি রোগ ভালো হয়। নিমের পাতা ভিজিয়ে সেই পানি দিয়ে গোসল করলে শরীরের বিভিন্ন ধরনের রোগ হতে মুক্তি পাওয়া যায়।

নিম গাছ  বাত জ্বর যকৃতের রোগ, রাতকানা, শ্বাসকষ্ট, এলার্জি, ডায়াবেটিসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিষেধ হিসেবে কাজ করে। এটা সাধারণত উষ্ণ অঞ্চলে একটু ভালো জন্মে। নিমের আদি বাসস্থান হিসেবে ধরা হয় বাংলাদেশ এবং ভারতকে। তবে এটি মধ্যপ্রাচ্যে প্রচুর পরিমাণে দেখা যায়। এই গাছটির ১৫ থেকে ২০ ফুট লম্বা হয়। এর পাতা থেকে শুরু করে বীজ ডালপালা মূল শিকড় বা কল এবং সকল অংশ ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।নিম গাছ যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন রোগের প্রতিশোধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে।

এলোভেরা বা ঘৃতকুমারী 

এলোভেরা বা ঘৃতকুমারী নামটি আমাদের প্রত্যেকের কাছে খুবই পরিচিত।  এলোভেরা বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন নামে পরিচিত।  এই গাছটির বিশেষ গুণ হচ্ছে এটি যেরকম সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে টিক সেরকম ওষুধ হিসেবে কাজ করে। শহরের বাসাবাড়িতে  সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ফুলের টবের মধ্যে এলোভেরা চাষ করে থাকে। বাজারে ফুলের টবের মধ্যে এলোভেরা ছুটে ছাড়া কিনতে পাওয়া যায়। এ গাছের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে অল্প আলোতে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে পারে।

এলোভেরা গাছের মূল উপাদান হচ্ছে এর পাতার ভেতর যে সাদা অংশ।  এই অংশ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়।  আমাদের দেহের কোষ্ঠকাঠিন্য ও হজমের সমস্যা এসব ধরনের রোগের কারণে অ্যালোভেরা ব্যবহার করা হয়। এলোভেরা জেল  শরবত হিসেবে খাওয়া হয়। 

ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য অ্যালোভেরা গুরুত্ব অপরিসীম। এর জেলি আমাদের দেহের ত্বকের সৌন্দর্য বর্ধনের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়।  ভূতের কারণে ত্বক পড়ে গেলে বা তাদের কারণে রক্ত পড়ে গেলে বা অন্য কোন সমস্যা দেখা দিলে এলোভেরা জেল লাগালে ত্বক সুন্দর ও মসৃণ হয়।  এর জেলের সাথে মধু মিশিয়ে ব্যবহার করলে আরো ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। 

চুলে সৌন্দর্যের জন্য মাথার মধ্যে এলোভেরা জেল ব্যবহার করা হয়। এই জেল ব্যবহার করলে চুলের কোন সুন্দর ও লম্বা হয়। তাই বলো যে ওষুধ এবং সৌন্দর্য বর্ধন উপাদান হিসেবে অ্যালোভেরার গুরুত্ব ও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করা হচ্ছে।  এটি ব্যাপকভাবে দেখা যায় মধ্যপ্রাশের দেশগুলোতে।  আরব দেশ সুদান আফ্রিকাতে এই এলোভেরা প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। এটি দেখতে প্রায় ক্যাকটাসের মত। এর পাতার মধ্যে ছোট ছোট কাটাযুক্ত থাকে।

বর্তমানে কিছু কোম্পানি বাণিজ্যিকভাবে এলোভেরা চাষ করে এর যে ভিতরের জেল তা বাজার করছে। ভেষজ ঔষধ হিসেবে এলোভেরা জেল ব্যাপক পরিচিত। 

তুলসী পাতা

 সে আমাদের সবার নিকট একটি পরিচিত ভেষজ। এটি বাংলাদেশের প্রায় সর্বপ্রথম পাওয়া যায়। এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে তুলসী পাতা বেশি ব্যবহার করা হয় সর্দি-কাশির ওষুধ হিসেবে।  এই পাতার ফুল ফল ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।  সর্দি কাশিতে সাথে মধু মিশিয়ে খেলে বেশ উপকার পাওয়া যায়।  দূর করে ,চুলকা নিয়ে সমস্যা দূর করে,কোষ্ঠকাঠিন্য, বাত,হাঁপানি, দাঁতের ব্যাথা,  হজমের সমস্যা, চুলকানি, ক্যান্সার, হেপাটাইটিস বি,ইত্যাদির প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

এই পাতা এশিয়া মহাদেশের সব জায়গায় পাওয়া যায়। এটি হিন্দু ধর্মালম্বীদের নিকট একটি পবিত্র গাছ। এর পাতা বিজি থেকে একটি ঝামেলো গন্ধ বের হয়। এ গা সাধারণত দুই থেকে তিন ফুট লম্বা হয়। এটি একটি গর্ভ জাতীয় উদ্ভিদ। একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বাঁচে।  এটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় সর্দি-কাশিতে। সর্দি কাশিতে গোলমরিচের সাথে পাতা মিশিয়ে খেলে অতি সহজে দূর হয়ে যায়। তাই যাদের ঠান্ডা সমস্যা তাদের নিকট একটি পরিচিত পাতা হচ্ছে তুলসী পাতা। 

আমাদের প্রত্যেকের উচিত বাড়ি আশেপাশে এরকম কিছু ওষুধ গাছ লাগানো। তুলসী গাছ বাড়িতে থাকলে যে কোন সময় সর্দি-কাশি শহর ঠান্ডা সমস্যা সমাধানের জন্য এটি ব্যবহার করা যায়।  খুব কম সময়ে এবং অল্প করেছে বিশেষ করে খরচ ছাড়াই সহজেই সর্দি কাশি সহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।  এর সবচাইতে বড় গুণ হচ্ছে জাতীয় উদ্ভিদের কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই।

পুদিনা পাতা

 পুদিনা বিশেষ করে ব্যবহার করা হয় রন্ধনশিল্পী।  খাবার পরিবেশন এর সময় পুদিনা পাতা ব্যবহার করা হয়। এটি খাবারের ঘ্রাণ বৃদ্ধি করে। এটি অনেক ভিটামিন সমৃদ্ধি একটি পাতা। পুদিনা পাতার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ঔষধি গুণ রয়েছে। এটির চর্মরোগ, বুক ব্যাথা, পাকস্থলীর পদহ করে। এর মধ্যে থাকা মেন্থল ভেঙ্গে আমাদের সর্দি কাশি হতে মুক্তি দেয়। পুদিনা পাতা আমাদের শরীরে অতিরিক্ত চর্বি ভেঙ্গে আমাদের বডি সতেজ সুন্দর রাখে। এটি বদ হজমে বেশ কার্যকর। হজমের সমস্যা হলে পুদিনা পাতা খেলে বদহজম দূর হয়ে যায়।

এটি আমাদের  ক্ষুধা মন্দ ভাব দূর করে। বিশ্বে প্রায়শ ৬৫০  প্রজাতির পুদিনা পাতা পাওয়া যায়। বাংলাদেশ ভারত এশিয়া ইউরোপ আফ্রিকায় পুদিনা পাতা পাওয়া যায়। এটি বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করা হয়। পুদিনা পাতা অতি প্রাচীনকাল থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সহ বাংলাদেশ ভারতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই পাতা আমাদের পিত্তথলি হতে বাধা দেয়। এ কাজটি সাধারণত ১০ থেকে ৩০ ইঞ্চি লম্বা হয়। এর প্রধান ব্যবহার খাবারের সুগন্ধ বৃদ্ধির জন্য।

এটি একটি পরিচিত পাতা। খাবারের ঘ্রাণ এবং স্বাদ বৃদ্ধির জন্য পুদিনা পাতা ব্যবহার করা হয়। এই পাতার বিশেষ করে  কাঁচাা খাওয়া হয়।

অ্যালোভেরার উপকার

Views: 43

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *