আমার জীবনের লক্ষ্য

Table of Contents

আমার জীবনের লক্ষ্য

আমার জীবনের লক্ষ্য
আমার জীবনের লক্ষ্য

মানব জীবন ক্ষণস্থায়ী।এ কোন খালি জীবন থেকে অনেক আশা ও অনেক প্রত্যাশা।  মানব জীবনকে সার্থক ও সুন্দর করে তোলার অন্যতম শর্ত হচ্ছে নিজেকে সেই জীবনের উপযোগী করে গড়ে তোলা। জীবনকে আদর্শ ও কলোনিপথ পরিচালিত করার জন্য প্রত্যেক মানুষেরই একটা সুনির দেশের লক্ষ্য থাকা দরকার। জীবনের প্রস্তুতি লগ্নে লক্ষ্য ঠিক করে সাধনায় আত্মনী করা আবশ্যক।  নাবিক যেমন ধ্রুবতারা কি লক্ষ্য করে বিশাল সমুদ্রের পাড়ি জমায়, ঠিক তেমনি আমার দিকে কেউ লক্ষ্য স্থির করে জীবন সমুদ্রের পাড়ি জমাতে হবে। লোক্যহীন জীবন হাল বিহীন নৌকার মতো।  একটি সুদৃশ্য লক্ষ্যই একটি মানুষকে সফলতার সন্ন্যাসী করে নিয়ে যেতে পারে।  সেজন্য কবি বলেছেন-

‘’সংসার সিন্ধুতে ধ্রুবতারা সমষ্টির লক্ষ্য চাই,

 লক্ষ্যবিহীন জীবন তরুণী কুল নাহি কভু পায়।’’

আমার লক্ষ্য

 সমাজে ভিন্ন প্রকৃতির মানুষ বাস করে।  তাই তাদের চিন্তা চেতনা ভিন্ন প্রকৃতির হয়। কেউ হতে চায় বিদ্বান, কেউ হতে চায় কবি বা বৈজ্ঞানিক। কেউবা হতে চায় ডাক্তার আবার কেউ বা হতে চায় শিক্ষক।  বহু আদর্শ আমার মনে জেগে উঠে আবার তা মিলিয়েও যায়। কখনো কখনো মনে হয়েছে নজরুলের মতো বিদ্রোহী হব, কখনো ভেবেছি মানুষের সেবা করব, নেলসন মেন্ডেলের মত বড় নেতা হব। আবার কখনো মনে ইচ্ছা জেগেছে বৈজ্ঞানিক হতে, ডঃ কুদরতি ক্ষুধার মত সারা জীবন কাটিয়ে দেবো বিজ্ঞানের সাধনায়। আবার কখনো বা ভেবেছি ব্যবসা করে লক্ষ লক্ষ টাকা রোজগার করব, বাড়ি গাড়ি করে আরাম-বিলাসের মধ্য দিয়ে জীবন কাটিয়ে দেবো। নদীমাতৃক বাংলাদেশের সাধারণ পল্লীগ্রামে আমার জন্ম।  চারিদিকে তাকিয়ে বুঝতে পারি আমার পরিবেশ, আমার দেশ ও সমাজকে। বুঝতে পারি একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আমার কি কর্তব্য।  নিজের জীবনের উন্নতি ছাড়াও দেশ ও জাতির উন্নতি আসবে কি করলে এসব চিন্তা আমাকে তাড়িত করে বার বার। আমার পিতা একজন সাধারণ কৃষক।  তিনি সারাদিন মাঠে কাজ করেন কিন্তু ফসল ফলাতে পারেন না তেমন। তাই অনেক ভেবেচিন্তে আমি আমার জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি।  আমি একজন কৃষি গবেষক এবং খামার বিশেষজ্ঞ হব। আমারে লক্ষ্য নির্বাচনের উদ্দেশ্য হলো কৃষি নির্ভর বাংলাদেশের উৎপাদন ব্যবস্থার সাথে প্রত্যক্ষভাবে নিজকে যুক্ত রেখে দেশের খাদ্য সমস্যা, বেকার সমস্যা, পুষ্টির সমস্যা ইত্যাদি দূর করা এবং বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের গৌরবময় ঐতিহ্য তুলে ধরা।

 প্রস্তুতি

আমার জীবনের লক্ষ্য
আমার জীবনের লক্ষ্য

জমিতে ভালো ফসল করাতে হলে বীজ বপন ও আনুষঙ্গিক পরিশ্রম এবং স্বাধীনতা দরকার হয়। তেমনি জীবনের স্বপ্নকে শত করে তুলতে হলে প্রয়োজন একান্ত সাধনা, আন্তরিক ইচ্ছা ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। সে পরিকল্পনার সুষ্ঠু বাস্তবায়নেই আমাকে উপনীত করে দেবে আমার জীবন সফলতার তুরণ দুয়ারে। সে সফলতার সাধনায় তো জীবন সাধনা।  আমি এখন সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র।  কৃষিবিদ হতে হলে আমাকে অবশ্যই ভালোভাবে ফ্রিজের সাথে পাস করতে হবে।  প্রয়োজনীয় পরিশ্রম ও ত্যাগের জন্যই অবশ্যই প্রস্তুত থাকতে হবে।

ভবিষ্যতে আমি যা করব

আমার জীবনের লক্ষ্য
আমার জীবনের লক্ষ্য

 আমি একজন কৃষিবিদ হয়ে গ্রামে ফিরে যাব। কঠোর পরিশ্রম ও উপযুক্ত চর্চার মধ্য দিয়ে একজন আদর্শ কৃষক হতে পারব বলে আমি দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি। বাংলাদেশের মতো কৃষি প্রধান দেশে জাতীয় আয়ের সিংহভাগ আসে কৃষি থেকে।  কিন্তু দেশের কৃষি ব্যবস্থা আজ বিপর্যস্ত। দরিদ্র, ও শিক্ষা ও বেকারত্ব বিভিন্নভাবে এদেশের কৃষির উপর চাপ সৃষ্টি করছে। দিন দিন মানুষ বাড়ছে।  কমে যাচ্ছে চাষের জমি। কমে যাচ্ছে জমির উৎপাদন শক্তি।  ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টির প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নষ্ট করে দিচ্ছে জমির ফসল। এসব কারণে কৃষক সমাজের মেরুদন্ড ভেঙ্গে যাচ্ছে।  দেশের এ ভয়াবহ অবস্থা দেখে আমি দীর্ঘ চিত্রে নিজেকে একজন কৃষিবিদ ও খামার বিধি হিসেবে গ্রামের অসহায় কৃষকদের পাশে দাঁড়াবো। নিজেকে পূরণের দমে কৃষি উন্নয়ন ও গবেষণা করবে নিয়োজিত করব। কি করে অল্প সময়ে এক জমি থেকে অধিক পর্যায়ে শস্য পাওয়া যায়, নদীমাতৃক বাংলাদেশের শুকনো মৌসুমে জমি থেকে কত বেশি করে কোন শস্য লাভজনকভাবে উৎপাদন করা যায়, বন্যা ও স্রোতের সাথে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকার মত শক্তিশালী শস্য কি অথবা কেমন হতে পারে এসব বিষয়ে গবেষণায় হবে আমার প্রধান কাজ। গ্রামবাসীদের সহায়তা নিয়ে আমি গড়ে তুলবো নানা প্রকার খামার। উন্নত জাতের গবাদি পশুর খামার, দুগ্ধ খামার, হাঁস মুরগির খামার এবং লাভজনক মৎস্য খামার কিভাবে গড়ে তুলতে হয় তা গ্রামের কৃষকদেরকে বোঝাবো। হাঁস-মুরগি, মৎস্য, গবাদি পশু ইত্যাদি থেকে যে খুব অল্প করেছে এবং অল্প সময়ে লাভজনক আয় হতে পারে সে বিষয়ে আমি তাদেরকে অবহিত করব। শুধু তাই নয় জনসাধারণকে হাতে-কলেমে শিক্ষা দেওয়ার জন্য আমি গ্রামে গড়ে তুলবো একটি কৃষি খামার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।  সভা সমিতি, আলোচনা, প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার প্রদান ইত্যাদির মধ্য দিয়ে কামার ব্যবস্থাকে জনপ্রিয় করে গড়ে তোলার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব। 

কৃষকের উন্নতির সাথে জড়িত রয়েছে দেশের উন্নতি।  কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, দেশের ঘরে আসবে সুখ ও সমৃদ্ধি। মাছে ভাতে বাঙালি আমাদের এ লুপ্ত পরিচয় সগর্ভে প্রতিষ্ঠিত হবে। তাই দেশ ও জাতির স্বার্থে দেশের কৃষিবিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া আবশ্যক। তাই কৃষিবিদ হওয়ায় আমার জীবনের স্বপ্ন, আমার জীবনের প্রিয় আকাঙ্ক্ষা। আমার বিশ্বাস, যদি আমার সাধনায় কোন সতুল্য না থাকে এবং মনের একাগ্রতা যদি অটুট থাকে তবে আমার স্বপ্ন অবশ্যই সফলতা লাভ করবে। আমার একাগ্রতই আমাকে সাফল্যের সিংহ ধরে পৌঁছে দিয়ে আমার প্রাণের যুগে নতুন উদ্যুম ও নতুন প্রেরণা। পেশার মধ্যে দিয়েই আমি দরিদ্র জনগণের সভা করতে চাই।  গ্রামের গরীব চাষীদের অবস্থার পরিবর্তন করতে আমি সচেষ্ট থাকব। সেই লক্ষ্যেই আমি হব একজন কৃষিবিদ ও খামার বিদ ইহাই বর্তমানে আমার একমাত্র লক্ষ্য। 

Views: 23

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *